নীলফামারীর সৈয়দপুরে বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি দখলমুক্ত করতে দুই দিনের উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। অভিযানের প্রথম দিনেই রেলওয়ের একটি জলাশয় দখল করে নির্মিত ছয়টি বসতবাড়ি এবং স্টেশন এলাকার ১০টি দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এ অভিযান মঙ্গলবার পর্যন্ত চলবে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, সৈয়দপুরে রেলওয়ের প্রায় সাড়ে ৮০০ একর ভূসম্পত্তি রয়েছে। এরমধ্যে অর্ধেকেরও বেশি জমি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দখলে চলে গেছে। এসব জমি পর্যায়ক্রমে দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
অভিযানের প্রথম দিনে শহরের গোলাহাট এলাকার একটি বড় জলাশয় ভরাট করে গড়ে তোলা ছয়টি বসতবাড়ি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়। একই সময়ে সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ১০টি দোকানও উচ্ছেদ করা হয়।
উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন পাকশী বিভাগের বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা (ডিইও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, গোলাহাট এলাকার জলাশয়টি রেলওয়ের নিজস্ব সম্পত্তি। জলাশয় ভরাট করে সেখানে অবৈধভাবে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছিল। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর সরকারের উচ্চপর্যায় এবং রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এরপর প্রয়োজনীয় নির্দেশনার ভিত্তিতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সৈয়দপুরে রেলওয়ের জলাশয়, কোয়ার্টার, পতিত জমি কিংবা কৃষি লিজের জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণসহ সব ধরনের অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দখলদারদের আগেই নোটিশ দিয়ে স্বেচ্ছায় স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়ায় অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। প্রয়োজন হলে অভিযানের সময়ও বাড়ানো হবে।
অভিযানে সৈয়দপুর রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী তোহিদুল ইসলাম, পার্বতীপুর রেলওয়ের কর্মকর্তা মহসিন আলী, উপসহকারী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম এবং রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) প্রধান আহসান হাবিব উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া রেলওয়ে পুলিশ, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) ও থানা পুলিশের সদস্যরা অভিযান বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেন।
রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অবৈধ দখলমুক্ত করার এই কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং রেলওয়ের সম্পত্তি রক্ষায় আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


