কক্সবাজারের টেকনাফে অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় ও মানবপাচার চক্রের কথিত মূলহোতা জাহাঙ্গীর আলমকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৫)।
মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক (ল’ অ্যান্ড মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক জানান, টেকনাফের সীমান্তবর্তী শাহপরীর দ্বীপে সোমবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সীমান্ত ও উপকূলীয় এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র পরিচালনা করে আসছিলেন।
গ্রেপ্তার জাহাঙ্গীর আলম টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের কোনাপাড়া শাহপরীর দ্বীপ এলাকার বাসিন্দা এবং সৈয়দ হোসেনের ছেলে।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, গত ১১ মে ঢাকার উত্তরখান থানায় একটি চাঞ্চল্যকর অপহরণ মামলার সূত্র ধরে তদন্তে নামে র্যাব। মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে র্যাব-১৫ ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে। একপর্যায়ে তারা নিশ্চিত হয়, মামলার মূল পরিকল্পনাকারী জাহাঙ্গীর আলম টেকনাফের দুর্গম শাহপরীর দ্বীপ এলাকায় আত্মগোপনে রয়েছে।
পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাত দেড়টার দিকে শাহপরীর দ্বীপের উত্তর পাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে র্যাবের একটি আভিযানিক দল। এ সময় জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক আ. ম. ফারুক বলেন, ‘অপরাধ দমনে র্যাব সবসময় জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করে যাচ্ছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, গ্রেপ্তার জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘদিন ধরে শাহপরীর দ্বীপ ও সাবরাং সীমান্ত এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র পরিচালনা করে আসছিল। অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় এবং সীমান্তপথে মানবপাচারের মতো গুরুতর অপরাধে তার সক্রিয় সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।’
র্যাবের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে তিনি একজন দুর্ধর্ষ ও প্রভাবশালী সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ছিল। তার নেতৃত্বাধীন চক্রের কারণে সীমান্তবর্তী জনপদে দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্ক বিরাজ করছিল। অনেক ভুক্তভোগী ভয় ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে প্রকাশ্যে অভিযোগ দিতেও সাহস পেতেন না। তাকে গ্রেপ্তারের পর স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।’
গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।


