ধূমপান ও তামাকবিরোধী আইনের প্রয়োগ ক্রমশ শিথিল হয়ে আসছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের বিশিষ্ট নাগরিকেরা। তারা এই আইনের কঠোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
শুক্রবার মে দিবস উপলক্ষে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে তামাকবিরোধী সংগঠন ‘আধূনিক’ (আমরা ধূমপান নিবারণ করি) আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলা হয়।
৩১ মে ‘বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস’ উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ‘আধূনিক’-এর সভাপতি ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. হাসিনা বানু বলেন, ‘আইনের কার্যকারিতা কমে আসায় তামাকজনিত কারণে মৃত্যু আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। আগে যেখানে তামাকের কারণে বছরে গড়ে এক লাখ মানুষের মৃত্যু হতো, ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দুই লাখে পৌঁছেছে।’
তিনি প্রচলিত আইনের যথাযথ প্রয়োগের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চান।
বিশিষ্ট আইনজীবী ও গুলশান সোসাইটির সভাপতি ব্যারিস্টার ওমর সাদাত ২০০১ সালে জাতীয় অধ্যাপক নূরুল ইসলামের পক্ষে করা একটি রিট আবেদনের কথা স্মরণ করেন।
তিনি জানান, সেই রিটের পরিপ্রেক্ষিতেই সংবাদমাধ্যমে তামাকের বিজ্ঞাপন বন্ধের নির্দেশনা আসে এবং পরবর্তীতে ২০০৩ সালে আইন প্রণীত হয়। তিনি এই আন্দোলন এগিয়ে নিতে সব ধরনের আইনি সহায়তা দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা উল্লেখ করেন, দেশের বৃহৎ অংশ শ্রমজীবী এবং তাদের মধ্যে তামাক ব্যবহারের হার তুলনামূলক বেশি। মূলত তাদের সচেতন করতে শ্রমিক দিবসে এই বিশেষ সভার আয়োজন করা হয়েছে। জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব শামীম হায়দার বলেন, ‘সংসদ সদস্যরা আন্তরিক হলে এই আন্দোলন আরও বেগবান হবে।’
‘আকর্ষণের মুখোশ উন্মোচন: নিকোটিন ও তামাক আসক্তির মোকাবিলা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি জাতীয় সংগীত ও কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয়।
আলোচনায় আরও অংশ নেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) চেয়ারপারসন মনসুর আহমেদ চৌধুরী, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. নীনা ইসলাম, কিডনি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. হারুন আর রশিদ প্রমুখ।
সভার পাশাপাশি অনুষ্ঠানে তামাকবিরোধী কবিতা আবৃত্তি ও সংগীত পরিবেশন করা হয়।


