অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ বন্ধ করতে হবে। যে দল বা ধর্মেরই হোক না কেন, বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। এটি একটি সুস্থ শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলে মনে করেন তিনি।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ‘সরস্বতী জ্ঞান মন্দির’ (কেন্দ্রীয় মন্দির) উদ্বোধন শেষে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে এমন একটি দেশ গড়তে চাই, যা হবে সহনশীল, সংবেদনশীল, মানবিক ও স্থিতিশীল। এই চারটি গুণ না থাকলে কোনো দেশ এগিয়ে যেতে পারে না। তাই বাংলাদেশকে এমন একটি দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে আমাদের সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।’
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধতা প্রকাশ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয় একটি অসাধারণ প্রাকৃতিক পরিবেশে অবস্থিত। এখানে প্রবেশ করতেই মনে হয়েছে যেন একটি বনভূমি বা প্রাকৃতিক রিসোর্টে এসেছি। এত বড় এলাকা, এত সমৃদ্ধ বনভূমি- এটি বাংলাদেশের জন্য সত্যিই অনন্য।’
‘এখানে বন্যপ্রাণী ও পাখির তালিকা তৈরি করা যেতে পারে; এগুলো সংরক্ষণ ও গবেষণার সুযোগ রয়েছে। তবে এই সম্ভাবনাকে যদি আমরা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে না পারি, সেটি হবে আমাদের দুর্ভাগ্য’, যোগ করেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে “নেক্সট লেভেলে” নিয়ে যাওয়ার জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এত বড় সম্ভাবনাময় একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। এর জন্য দরকার সঠিক মানসিকতা, মানসম্মত শিক্ষক, ভালো শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক এবং সময়োপযোগী কারিকুলাম। আমাদের স্বীকার করতে হবে, আমরা এখনও সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারিনি। আর নিজের বর্তমান অবস্থান স্বীকার না করলে উন্নয়ন সম্ভব নয়।’
‘বিশ্ববিদ্যালয়ে বাইরের লোকজনের অবাধ প্রবেশ বন্ধ করতে হবে’ উল্লেখ করে আমির খসরু বলেন, ‘বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। এটি একটি সুস্থ শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়ক হবে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মীর হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘হাটহাজারী একটি সম্প্রীতির এলাকা। এখানে মন্দির, মসজিদ, প্যাগোডা কিংবা গির্জা—যে কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে কাজ করে। আমি গত কয়েক দিনে যে শ্মশান বা মন্দির সংস্কারের প্রস্তাব পেয়েছি, সেগুলো কোনো নির্দিষ্ট কমিটি থেকে নয়, বরং সাধারণ এলাকাবাসীর কাছ থেকে এসেছে। এটাই প্রমাণ করে এই এলাকার মানুষ কতটা সম্প্রীতিময়।’
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ আল-ফোরকান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান এবং উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন এবং অদুল-অনিতা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান অদুল কান্তি চৌধুরী ও কো-চেয়ারম্যান অনিতা চৌধুরী।


