পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ চলছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে রাজ্যের ১৬ জেলায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। পশ্চিমবঙ্গের মোট ২৯৪ আসনের মধ্যে প্রথম ধাপে ১৫২ আসনে ভোট হচ্ছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়, প্রায় তিন কোটি ৬০ লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। এই ধাপে ১৬টি জেলার গুরুত্বপূর্ণ আসন- নন্দীগ্রাম, দার্জিলিং, শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারে বিশেষভাবে নজর রাখছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, অন্তত ৮০টি আসনে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ও রাজ্য মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় জনতা পার্টির নাগালের বাইরে থাকা রাজ্যগুলোর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ অন্যতম। তবে নানা কারণে সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েছে বলে গুঞ্জন ওঠায় এবারের নির্বাচন ঘিরে বড় আশা রাখছে বিজেপি। অন্যদিকে, ক্ষমতা ধরে রাখতে জোর প্রচার চালিয়েছেন মমতা ও তার দল।
একদিকে তৃণমূল কংগ্রেস, অন্যদিকে ভারতীয় জনতা পার্টি- দুই পক্ষের মধ্যে কেবল ভোটের নয়, চলছে মর্যাদার লড়াই। সাম্প্রতিক সময়ে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে যে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা এই লড়াইকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
প্রথম দফার নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন গৌতম দেব (শিলিগুড়ি), উদয়ন গুহ (দিনহাটা), ফিরহাদ হাকিম (কলকাতা বন্দর এলাকা) এবং পবিত্র কর (নন্দীগ্রাম)। অন্যদিকে ভারতীয় জনতা পার্টির হয়ে নন্দীগ্রাম থেকে লড়ছেন শুভেন্দু অধিকারী। এছাড়া নিশীথ প্রামাণিক (মাথাভাঙ্গা) ও দিলীপ ঘোষ (খড়গপুর সদর) বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ মুখ।
ভোটগ্রহণ শুরু হতেই সামাজিকমাধ্যম এক্স পোস্টে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা গণতন্ত্রের এই উৎসবে অংশগ্রহণ করুন। বিশেষ করে তরুণ বন্ধু এবং পশ্চিমবঙ্গের নারীদের প্রতি আমার অনুরোধ- আপনারা বিপুল সংখ্যায় ভোট দিন।’
২০১১ সালে ৩৫ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর টানা তিনবার সরকার গঠন করেছে তার দল তৃণমূল কংগ্রেস। অনেকের মতে, এবারের নির্বাচন তার জন্য সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা। যদিও ২০২১ সালের নির্বাচনেও একই ধারণা করা হয়েছিল, তখন তৃণমূল কংগ্রেস ২১৫টি আসন জিতে তাদের সেরা ফল নিয়ে রাজ্য সরকার গঠন করে। সেই নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) পেয়েছিল ৭৭টি আসন।
এরপর থেকেই বিজেপি ধারাবাহিকভাবে দুর্নীতি, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং উন্নয়নের অভাবের অভিযোগ তুলে তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এই লড়াইকে রাজ্যের স্বকীয়তা, সংস্কৃতি ও অধিকার রক্ষার লড়াই হিসেবে তুলে ধরছে। তারা অভিযোগ করছে, কেন্দ্র সরকার রাজ্যের প্রাপ্য অর্থ ছাড়ছে না।
এবারের নির্বাচনে একটি বড় বিষয় হয়ে উঠেছে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন। এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ৮৯ লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, যা মোট ভোটারের প্রায় ১১ দশমিক ৬ শতাংশ। এই সংখ্যা ২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের জয়ের ব্যবধানের থেকেও বেশি। বিশেষ করে যেসব জেলায় তৃণমূলের জয়ের ব্যবধান কম ছিল, সেখানে এই পরিবর্তনের প্রভাব বেশি পড়েছে।
২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস প্রায় ৪৮ শতাংশ ভোট পেয়েছিল, যেখানে ভারতীয় জনতা পার্টি পেয়েছিল প্রায় ৩৮ শতাংশ ভোট। এবারের ভোটার তালিকা সংশোধনের ফলে সেই ব্যবধান কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে কড়া নিরাপত্তার চাদরে মোড়ানো হয়েছে গোটা পশ্চিমবঙ্গকে। নির্বাচন কমিশন রাজ্য জুড়ে দুই লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করেছে।
একই দিনে তামিলনাড়ুতেও ২৩৪টি আসনে ভোটগ্রহণ চলছে। পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় দফার ভোট হবে ২৯ এপ্রিল এবং ভোট গণনা হবে ৪ মে।


