দেশের ৭৮ শতাংশেরও বেশি মানুষ মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রমে সন্তুষ্ট। বেসরকারি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইনোভেশন কনসাল্টিংয়ের আয়োজনে এই জরিপটি পরিচালিত হয়েছে, যার সহযোগিতায় ছিল বিআরএআইএন এবং ভয়েস ফর রিফর্ম।
রোববার রাজধানীর ডেইলি স্টার ভবনে এক গোলটেবিল আলোচনায় জরিপের ফলাফল প্রকাশ করেন ইনোভেশন কনসাল্টিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবাইয়াৎ সারওয়ার। আলোচনায় প্রধান অতিথি উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
সংবাদ সংস্থা বাসস জানায়, এই জরিপটি ২ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের ৬৪ জেলা থেকে ১০ হাজার ৪১৩ জন মানুষের মতামত সংগ্রহ করে পরিচালিত হয়। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের কাছে অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম, নিরপেক্ষ নির্বাচন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নির্বাচনী পরিবেশ, ভোটার উপস্থিতি এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে মতামত নেওয়া হয়।
ফলাফল প্রকাশের সময় জানানো হয়, ৭৮ দশমিক ৭ শতাংশ অংশগ্রহণকারী অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রমে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তাদের মধ্যে ৩৯ দশমিক ৫ শতাংশ বলেন সরকারের কার্যক্রম ভালো এবং ৩৯ দশমিক ২ শতাংশ বলেন মোটামুটি ভালো।
জরিপে আরও জানা যায়, বয়সভিত্তিক বিভাজনে প্রবীণদের মধ্যে সরকারের প্রতি ইতিবাচক ধারণা বেশি। ১৮ থেকে ২৮ বছর বয়সী জেন-জি উত্তরদাতাদের মধ্যে ৩৪ দশমিক ৭ শতাংশ, ২৯ থেকে ৪৪ বছর বয়সী মিলেনিয়ালদের মধ্যে ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ৪৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী জেন এক্সদের মধ্যে ৪২ দশমিক ৯ শতাংশ সরকারের কার্যক্রমকে ভালো বলেছেন।
একই সঙ্গে ৬১ থেকে ৭০ বছর বয়সী বুমারদের মধ্যে ৪৪ শতাংশ, ৭১ থেকে ৭৯ বছর বয়সী বুমার ওয়ানদের মধ্যে ৪৭ দশমিক ১ শতাংশ এবং ৮০ বছরের বেশি বয়সী উত্তরদাতাদের মধ্যে ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ সরকারকে ভালো বলেছেন।
অন্যদিকে, স্নাতক ডিগ্রিধারী উত্তরদাতাদের মধ্যে ৩১ দশমিক ২ শতাংশ এবং অশিক্ষিত বা প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষিতদের মধ্যে ৪৬ দশমিক ২ শতাংশ সরকারের কার্যক্রমকে ভালো মনে করেছেন।
এই জরিপের ফলাফল তুলে ধরে শফিকুল আলম বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের ১৪তম মাসে এসে প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষের সমর্থন পাওয়া সরকারের কার্যক্রমে জনগণের সন্তুষ্টি প্রমাণ করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশের মানুষ ভালো নির্বাচনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। সরকার প্রধান বহুবার ঘোষণা করেছেন, নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতেই হবে। দেশের ৯৫ শতাংশ মানুষ আশাবাদী। এমন পরিস্থিতিতে, নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করার কোনো শক্তি নেই।’
আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের পররাষ্ট্র নীতিবিষয়ক বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রাশনা ইমাম, ভয়েস ফর রিফর্মের সহ-আহ্বায়ক ফাহিম মাশরুর, বিআরএআইএনের নির্বাহী পরিচালক শফিকুর রহমান এবং রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নেতা সৈয়দ হাসিব উদ্দিন হোসেন।


