ওয়াশিংটন ডিসির জন এফ কেনেডি সেন্টারে বসেছিল ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের গ্রুপ পর্বের ড্রয়ের আসর। ৪৮ দলের বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের পথ যখন শুক্রবার রাতে তৈরি হলো, তখন প্রাথমিক বিশ্লেষণে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। যদিও প্রথম পর্ব কিছুটা সহজ মনে হলেও, নকআউট পর্বেই কঠিন সব চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে ফুটবল জায়ান্টদের জন্য। বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের চোখ এখন সোনালি ট্রফি পুনরুদ্ধারের সেই কঠিন পথের দিকেই।
বিশ্বকাপ এলেই বাংলাদেশ মূলত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায় ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনা। ওয়াশিংটনে ড্র অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণও ছিল এই দুই দলের গ্রুপ নির্ধারণ। ১১ জুন মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়ামে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে ২০২৬ বিশ্বকাপ। এর আগেই স্বাগতিক মেক্সিকো, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের গ্রুপিং ঠিক করা ছিল।
পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে রাখা হয়েছে ‘সি’ গ্রুপে। যুক্তরাষ্ট্রের কিংবদন্তি রাগবি খেলোয়াড় টম ব্র্যাডির হাতেই পাত্র থেকে উঠে আসে ব্রাজিলের নাম। কার্লো আনচেলত্তির দল তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ১৩ জুন, গতবারের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এই গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ হলো হাইতি ও স্কটল্যান্ড।
অন্যদিকে, বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা রয়েছে ‘জে’ গ্রুপে। তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে আছে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডান। ১৬ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলবে লিওনেল স্কালোনির দল। প্রাথমিক হিসেবে এই গ্রুপে আর্জেন্টিনাই ফেবারিট।
যদিও গ্রুপ পর্ব তুলনামূলকভাবে সহজ মনে হচ্ছে, তবুও দুই কোচের কণ্ঠেই সতর্কতা। ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি তাঁর ‘সি’ গ্রুপকে ‘খুব কঠিন গ্রুপ’ বলে মন্তব্য করেছেন।
‘মরক্কো অনেক শক্তিশালী দল ও স্কটল্যান্ডও তাই। মরক্কো গত বিশ্বকাপেও ভালো করেছে। স্কটল্যান্ড ইউরোপে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ জিতে বিশ্বকাপে এসেছে। দারুণ একটা দল। শারীরিকভাবে শক্তিশালী। কিন্তু আমাদের জাতীয় দলের সামর্থ্য নিয়ে আমি আত্মবিশ্বাসী।’ বলেন আনচেলত্তি। মরক্কোকেই তিনি প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখছেন।
অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনিও ২০২২ সালের মতোই মনে করছেন, ‘সহজ প্রতিপক্ষ বলে কিছু নেই। ম্যাচগুলো খেলতে হবেই।’ তিনি মনে করিয়ে দেন, আলজেরিয়া ‘দারুণ সব খেলোয়াড়ের সমৃদ্ধ ভালো দল’ এবং বাছাইপর্বে শীর্ষস্থান পাওয়া অস্ট্রিয়াও ভালো দল। তবে এই প্রথম বিশ্বকাপে অভিষিক্ত হতে যাওয়া জর্ডানকে নিয়ে তাঁর তেমন জানাশোনা না থাকলেও, দল যে কোনো কিছুই হালকাভাবে নেবে না, সে কথা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন স্কালোনি।
স্কালোনি বলেন, ‘যদি তাই হয়, তাহলে গ্রুপ (এইচ) ও পরবর্তী নকআউট পর্ব কঠিন। কিন্তু প্রথমে আমাদের গ্রুপ পর্ব পেরোতে হবে, তারপর দেখা যাবে।’
গ্রুপ পর্বের পরই কঠিন পরীক্ষা
নতুন বিন্যাসে ৪৮ দলের এই বিশ্বকাপে প্রতিটি গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুটি দল এবং তৃতীয় স্থানে থাকা সেরা ৮টি দল মিলে মোট ৩২ দল নকআউট পর্বে উঠবে। আর এখানেই তৈরি হয়েছে মূল চ্যালেঞ্জ।
গ্রুপ জে-তে শীর্ষ দুই দলের একটি হিসেবে শেষ ৩২-এ উঠলে সেখানে আর্জেন্টিনাকে মুখোমুখি হতে হবে ‘এইচ’ গ্রুপের বিজয়ী কিংবা রানার্সআপ দলের। এই ‘এইচ’ গ্রুপে আছে শক্তিশালী স্পেন, উরুগুয়ে, সৌদি আরব ও কেপ ভার্দে। অর্থাৎ, নকআউটের শুরুতেই কঠিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের।
দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা এখন সেমিফাইনালের আগে তৈরি হচ্ছে না, যদি উভয় দলই নিজ নিজ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন কিংবা রানার্সআপ হয়। তবে, একটি দল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন আর অন্য দল রানার্সআপ হলে সেমিফাইনালের বদলে ফাইনালের আগে তাদের দেখা হওয়ার কোনো সম্ভাবনা থাকবে না।
এক নজরে ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপগুলো:
গ্রুপ এ: মেক্সিকো, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া, প্লে-অফ ‘ডি’ জয়ী।
গ্রুপ বি: কানাডা, প্লে অফ ‘এ’ জয়ী, কাতার, সুইজারল্যান্ড।
গ্রুপ সি: ব্রাজিল, মরক্কো, হাইতি, স্কটল্যান্ড।
গ্রুপ ডি: যুক্তরাষ্ট্র, প্যারাগুয়ে, অস্ট্রেলিয়া, প্লে-অফ ‘সি’ জয়ী দল।
গ্রুপ ই: জার্মানি, কুরাসাও, আইভরি কোস্ট, ইকুয়েডর।
গ্রুপ এফ: নেদারল্যান্ডস, জাপান, প্লে-অফ ‘বি’ জয়ী দল, তিউনিসিয়া।
গ্রুপ জি: বেলজিয়াম, মিশর, ইরান, নিউজিল্যান্ড।
গ্রুপ এইচ: স্পেন, কেপ ভার্দে, উরুগুয়ে, সৌদি আরব।
গ্রুপ আই: ফ্রান্স, সেনেগাল, প্লে-অফ ২ জয়ী দল, নরওয়ে।
গ্রুপ জে: আর্জেন্টিনা, আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া, জর্ডান।
গ্রুপ কে: পর্তুগাল, উজবেকিস্তান, কলম্বিয়া, প্লে-অফ ১ জয়ী দল।
গ্রুপ এল: ইংল্যান্ড. ক্রোয়েশিয়া, ঘানা, পানামা।


