মূল বেতনের ২০ শতাংশ বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং উৎসব ভাতা ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭৫ শতাংশ করার দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করছেন দেশের বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীরা।
শুক্রবার আন্দোলনের ষষ্ঠ দিনে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারী অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।
এছাড়া তারা নতুন কর্মসূচি অনুযায়ী, শনিবার শহীদ মিনার থেকে ‘পতাকা মিছিল’ এবং রোববার প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন— ‘মার্চ টু যমুনার’ ডাক দিয়েছেন তারা।

অনশন করা এক নারী শিক্ষক বলেন, ‘আমাদের বাড়িভাড়া হিসেবে যে টাকা দেওয়া হয়, তা কিছুই না। আমরা বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসি) থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত। অনেকেই নিজ জেলা ছেড়ে অন্য জেলায় চাকরি করে। স্বামী-সন্তান রেখে বাইরের জেলায় কাজ করি, অথচ মাসে মাত্র ১ হাজার টাকা বাড়িভাড়া পাই। এই টাকায় একজন নারী শিক্ষকের থাকা সম্ভব?’
আরেক শিক্ষক বলেন, ‘আমাদের দাবি পূরণ হলেই আমরা অনশন ভেঙে চলে যাব।’
শিক্ষকরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘দাবি না মানা হলে তারা অনশন ভাঙবেন না এবং তা আমরণ চলবে।’ পাশাপাশি দেশের সব এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় কর্মবিরতি চলবে বলেও ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব দেলোয়ার হোসেন আজীজি বৃহস্পতিবার রাতে গণমাধ্যমকে জানান, ‘রাতের মধ্যে যদি দাবি মানা হয়, তাহলে সকালে শহীদ মিনার খালি করে বাড়ি চলে যাব। কিন্তু যদি না মানা হয়, দুপুর ২টা থেকে আমরণ অনশন শুরু করব।’

তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশে এখানে আসিনি। আমাদের দাবি ন্যায্য, মানবিক ও বাস্তবসম্মত। এই দাবিগুলো মানা না হলে আমরা এখানেই জীবন দেব।’
এর আগে, রোববার থেকে তিন দফা দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে টানা অবস্থান ও অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেছিলেন তারা। পুলিশের বাধার মুখে সেদিন দুপুরে তারা শহীদ মিনারে অবস্থান নেন। এরপর মঙ্গলবার সচিবালয় অভিমুখে লংমার্চ এবং বুধবার শাহবাগে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন।
এরপর শিক্ষকরা একাধিকবার যমুনা অভিমুখে পদযাত্রার ঘোষণা দিলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করে শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রাখেন।
বৃহস্পতিবার রাতে দাবি আদায়ের জন্য আমরণ অনশনের ঘোষণা দেন তারা। ওইদিন বিকালে শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরারের সঙ্গে শিক্ষক নেতাদের বৈঠক হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, আলোচনায় উপদেষ্টা নভেম্বর থেকে মূল বেতনের ৫ শতাংশ বাড়িভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব দেন। কিন্তু শিক্ষকরা সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘নভেম্বর থেকে অন্তত ১০ শতাংশ এবং আগামী জুলাই থেকে আরও ১০ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’ উপদেষ্টা জানান, ‘অর্থের সংস্থান না থাকায় তা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।’
সব সরকারের আমলে শিক্ষকরা বৈষম্যের শিকার বলে অভিযোগ করেন তারা।


