৩০ বছর পর আবারও যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়া ও চীনের মতো দেশের সঙ্গে সমানতালে পারমাণবিক শক্তি সক্ষমতার প্রমাণ দিতে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের এই নির্দেশ দেন তিনি।
দক্ষিণ কোরিয়ায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে বৈঠকের আগে সামাজিক মাধ্যমে এক বার্তায় ট্রাম্প লিখেছেন, ‘অন্য দেশের পরীক্ষামূলক পারমাণবিক কর্মসূচির কারণে আমি যুদ্ধ দপ্তরকে (পেন্টাগন) নির্দেশ দিয়েছি- আমাদের পারমাণবিক অস্ত্রগুলোও যেন সমানতালে ফের পরীক্ষা শুরু করা হয়।’
ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিশ্বের যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। এই তালিকায় রাশিয়া দ্বিতীয় স্থানে এবং “যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে অনেক কম সক্ষমতা নিয়ে” চীন তৃতীয় স্থানে আছে। যুক্তরাষ্ট্র ১৯৯২ সালের পর থেকে আর কোনো পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা পরিচালনা করেনি। এখন সময় এসেছে, বিশ্বকে আরেকবার মনে করিয়ে দেওয়ার।’
সম্প্রতি ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে অল্প দুরত্বে পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালায় রাশিয়া। সে সময় ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মধ্যস্থতা করার ক্ষেত্রে বেশ আশাবাদী ছিলেন ট্রাম্প। তবে দুই নেতার সম্ভাব্য সেই বৈঠক পণ্ড হলে মস্কোর ওই পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার কড়া সমালোচনা করেন তিনি।
এছাড়া ট্রাম্পের পূর্ব এশিয়া সফরে দক্ষিণ কোরিয়ায় পৌঁছানোর ঠিক আগে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালায় রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র উত্তর কোরিয়া। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের এই সিদ্ধান্তকেও ইতিবাচক মনে করছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
বুধবার রাতে ট্রাম্প তার পোস্টে পারমাণবিক অস্ত্রের ‘অকল্পনীয় ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা’ স্বীকার করে বলেন, ‘প্রথম দফায় প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনকালে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার “আধুনিকায়ন, পারমাণবিক অস্ত্রে সাজানো ও পুনর্নির্মাণ” করা ছাড়া আমার কোনো বিকল্প ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রকে সবাই ঈর্ষা করে, আমরা কেবল জবাব দিতে প্রস্তুত থাকতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার ধারণা, চীনের পারমাণবিক কর্মসূচি আর পাঁচ বছরের মধ্যেই সমান পর্যায়ে পৌঁছে যাবে। কাজেই যুক্তরাষ্ট্রকেও তার সক্ষমতা বাড়াতে হতে পারে। প্রক্রিয়াটি অবিলম্বে শুরু হবে।’

অবশ্য ট্রাম্প তার পোস্টে এই পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষাগুলো কীভাবে পরিচালিত হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
ট্রাম্পের এই নির্দেশনা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সামরিক নীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। সবশেষ ১৯৯২ সালে ২৩ সেপ্টেম্বর পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা চালিয়েছিল ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য নেভাডার একটি ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় ওই পরীক্ষা চালানো হয়।
এই প্রকল্পের কোডনাম ছিল ‘ডিভাইডার’, যা যুক্তরাষ্ট্রের এক হাজার ৫৪তম পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা হিসেবে লস আলামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির রেকর্ডে উল্লেখ আছে। এই গবেষণা সংস্থাটিই বিশ্বের প্রথম পারমাণবিক বোমা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
এরপর বিধ্বংসী অস্ত্রটির ভয়াবহতা বিবেচনায় স্নায়ু যুদ্ধের পর সাবেক রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ. ডব্লিউ. বুশ অবসানের পর পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেন।
‘প্রয়োজনে, নেভাডার ওই পরীক্ষাকেন্দ্রটি আবারও পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার জন্য অনুমোদিত হতে পারে’ বলে জানিয়েছে ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব নিউক্লিয়ার সায়েন্স অ্যান্ড হিস্ট্রি।


