আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা
রাজধানীতে বিজিবি মোতায়েন। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের কর্মসূচি ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও বিজিবি মোতায়েন করে দেশজুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয়।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য ঢাকায় ইতিমধ্যে বাড়তি ১৮ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ঢাকাসহ দেশের ছয় জেলায় আগামী ৭ দিনের জন্য নামানো হয়েছে সেনাবাহিনী। একই সঙ্গে দেশের পাঁচ জেলায় নয় দিনের জন্য মোতায়েন করা হয়েছে বিজিবি।

গত বৃহস্পতিবার পুলিশ সদরদপ্তর থেকে সারাদেশের সবকটি ইউনিটে বিশেষ চিঠি পাঠিয়ে সতর্ক করার পর দেশজুড়ে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। এই অভিযানের অংশ হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় আওয়ামী লীগের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুতির পর এটি দলটির দ্বিতীয় বছর। এর মধ্যে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার দেশে ফেরার আলোচনার সূত্র ধরে রাজপথে মিছিল বাড়িয়েছে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। গত প্রায় দুই বছর ধরে চলমান গ্রেপ্তার অভিযানের মধ্যেও প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে তারা জমায়েত হচ্ছে।

এর মধ্যেই ২৩ জুন দলের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগের ফেসবুক পাতায়  সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তাদের এই কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে পুষ্পস্তবক অর্পণ, পতাকা মিছিল, সভা, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রচারপত্র বিলি।

এই পরিস্থিতিতে সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যেকোনো ধরনের নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধ করতে এবং বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার লক্ষ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর মহানগরসহ ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জে ৩০ জুন পর্যন্ত সেনাবাহিনী মাঠে থাকবে।

আরও পড়ুন

তিনি আরও বলেন, ২৩ জুনকে টার্গেট করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক দল দেশে বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে। সেজন্য পুলিশকে সতর্ক করা হয়েছে।

এছাড়াও গাজীপুর, মাদারীপুর, শেরপুর, কক্সবাজার ও মৌলভীবাজারে মোতায়েন করা হয়েছে বিজিবি। অন্যান্য জেলাতেও তাৎক্ষনিকভাবে মোতায়েনের জন্য বিজিবির ইউনিট স্ট্যান্ডবাই থাকবে।

সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে রাজধানী ঢাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপি জানিয়েছে, রাজধানীর ২০০টির বেশি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে নিরাপত্তা তল্লাশি চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতেও নজরদারি ও তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।

বর্তমানে ঢাকায় ১৮ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে। নিয়মিত পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি মাঠে কাজ করছে গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি), কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটসহ পুলিশের অন্যান্য বিশেষায়িত ইউনিট। তারা সাদা পোশাকে নিবিড় গোয়েন্দা নজরদারি পরিচালনা করছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ১৫টি কুইক রেসপন্স টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং অতিরিক্ত রিজার্ভ ফোর্সও মোতায়েন আছে। পাশাপাশি কোনো ধরনের নাশকতা রুখতে সাদা পোশাকে ব্যাপক গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করছে স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) এবং ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার্স ডিভিশন (আইএডি)।

সরকারের এই কঠোর অবস্থানের বিপরীতে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম টাইমস অব বাংলাদেশ’কে বলেন, তাদের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে। দেশের মানুষ কোনো ধরনের বাধা মানবে না।

রাষ্ট্রীয় বাহিনী দিয়ে আওয়ামী লীগকে দমানো যাবে না উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে সরকার দমন-পীড়নের পথ বেছে নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের জন্মই হয়েছে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। দিন দিন তাদের মিছিলে মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ছে, এমনকি নারীরাও এই মিছিলে যোগ দিচ্ছেন।

অন্যদিকে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী টাইমস’কে বলেন, সরকারের মধ্যে এখন এক ধরনের ভীতি সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের এই ভীতির কারণেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আরও বেশি উজ্জীবিত হচ্ছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad