‘শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ গঠন: মানবাধিকার, উন্নয়ন ও নিরাপত্তার জন্য সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রসার’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সারা দেশে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালিত হচ্ছে।
দিবসটি উপলক্ষে রোববার মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মুক্ত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠা কেবল দিবস পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে জাতীয় ও স্থানীয় সব পর্যায়ে সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি। সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম এক বিবৃতিতে এই আহ্বান জানান।
এইচআরএসএস-এর তথ্য ও ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দেশে অন্তত ৫২৩টি ঘটনায় ১ হাজার ৩৪ জন সাংবাদিক বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত ৪৩৪টি ঘটনায় ৮৬২ জন সাংবাদিক আক্রান্ত হয়েছেন।
এই সময়ে ৬ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ৪০২ জন এবং লাঞ্ছিত হয়েছেন ৯৪ জন। এ ছাড়া নানাভাবে ১০৫ জন সাংবাদিক হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন এবং ৪৯টি মামলায় ২২২ জনকে অভিযুক্ত ও ৩৩ জনকে আটক করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বর্তমান সরকারের আমলে ৮৯টি ঘটনায় ১৭২ জন সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ১০২ জন আহত, ২৩ জন লাঞ্ছিত এবং ২৭ জন হুমকির শিকার হয়েছেন বলেও বিবৃতিতে বলা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ সময়কালে ৬টি মামলায় ১৩ জনকে অভিযুক্ত এবং ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স-এর বৈশ্বিক গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫২তম, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
এইচআরএসএস মনে করে, বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা ও মুক্ত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠায় কর্মীদের আর্থিক নিরাপত্তা, স্বাধীন কর্মপরিবেশ এবং আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
ডিজিটাল যুগের অপতথ্য মোকাবিলায় স্বাধীন গণমাধ্যমকে আরও সতর্ক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি সরকারকে সাংবাদিকদের জন্য সুনির্দিষ্ট পে-স্কেল ও সুরক্ষা কাঠামো তৈরির জোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।


