রাজধানীর মাওলানা ভাসানী জাতীয় হকি স্টেডিয়ামের সেই পরিচিত নীল টার্ফ এখন ইতিহাসের অংশ হওয়ার পথে। আশির দশকে হকি ছিল এ দেশের মানুষের আবেগের জায়গা, যা সময়ের আবর্তে কিছুটা ম্লান হয়ে গিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যুব হকি বিশ্বকাপে চ্যালেঞ্জার কাপ জয় করে বাংলাদেশ নতুন করে আশার আলো দেখিয়েছে। সেই সাফল্যের ধারাকে জাতীয় পর্যায়েও ছড়িয়ে দিতে এবং হকির হারানো ঐতিহ্য ফেরাতে অবকাঠামোগত উন্নতির দিকে নজর দিয়েছে বর্তমান ফেডারেশন কমিটি।
দীর্ঘ ১১ বছর ধরে টানা ব্যবহারের ফলে বর্তমান টার্ফটির কার্যক্ষমতা একদম তলানিতে ঠেকেছে। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক লে: কর্নেল রিয়াজুল হাসান (অব.) এক সাক্ষাৎকারে জানান, ‘যেহেতু স্টেডিয়ামটি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে, তাই ২০২৫ সালের শেষ দিকে মন্ত্রণালয়ে চাহিদা অনুযায়ী সমস্ত বাজেট পেশ করি এবং তারা সেই অনুযায়ী কাজ শুরু করেছে’।
টার্ফ পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে রিয়াজুল হাসান বলেন, ‘প্রতিটি পিচের একটি লাইফস্প্যান আছে, যা সময়ের অতিবাহিত হবার সাথে পিচের মান কমিয়ে দেয়। এই পিচটি ১১ বছর ধরে চলমান রয়েছে। নতুন পিচ ইন্সটল করা হলে খেলার মান বাড়ানো কিছুটা সহজ হবে’।
স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা গেল, সংস্কার কাজ শুরু হয়ে গেছে। তবে পুরো কাজ শেষ হতে ঠিক কতদিন সময় লাগবে, তা নিয়ে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কিছুটা ধোঁয়াশা রাখলেন। তিনি বলেন, ‘কাজটা যেহেতু মন্ত্রণালয় পুরোটা দেখাশোনা করছে, তাই সেক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়টা আমরা বলতে পারছি না। তবে আশা করছি বেশ দ্রুতই কাজ হয়ে যাবে’।
স্মৃতি রোমন্থন করলে দেখা যায়, ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে চার লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের এই নীল টার্ফটি বসাতে ফেডারেশনকেও মোটা অঙ্কের অর্থ গুণতে হয়েছিল। সে সময় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহায়তার পাশাপাশি ফেডারেশনকেও খরচ করতে হয়েছিল ৭৫ হাজার ডলার। এখন নতুন টার্ফের অপেক্ষায় দেশের হকি খেলোয়াড় ও সমর্থকরা, যাদের স্বপ্ন মসৃণ টার্ফে বলের ড্রিবলিংয়ে আবারও বিশ্বমঞ্চ কাঁপাবে লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা।


