কক্সবাজারের রামু উপজেলায় আলোচিত ঈদগাঁও–ঈদগড় সড়ক থেকে অপহৃত ঈদগড় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য রুস্তম আলীকে (৪১) প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি, ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিলে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রশিদনগর ইউনিয়নের পানিরছড়া পাহাড়ি এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে রামু থানা পুলিশ।
এদিন ভোর ৫টার দিকে ঈদগাঁও বাজার থেকে ঈদগড় যাওয়ার পথে পানেরছড়া ঢালা এলাকায় একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তার পথরোধ করে অপহরণ করে নিয়ে যায়। অপহরণের পরপরই পরিবারের কাছে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়ার নেতৃত্বে অপহরণের পরপরই একাধিক টিম গঠন করে ঈদগড় ও রশিদনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় দিনভর অভিযান চালানো হয়। অভিযানের একপর্যায়ে রাত ৯টার দিকে পানিরছড়া এলাকা থেকে রুস্তম আলীকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ঈদগড় পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) খুর্শেদ আলম বলেন, ‘অপহরণের খবর পাওয়ার পরপরই আমরা পাহাড়ি এলাকায় অভিযান শুরু করি।’
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘অপহরণের পর সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। ধারাবাহিক অভিযানের ফলেই তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।’
তবে রুস্তম আলীর পরিবারের দাবি, ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দেওয়ার পরই রাত সাড়ে ৯টার দিকে পানিরছড়া এলাকায় রুস্তম আলীকে ছেড়ে দেয় অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা। সেখান থেকে তাকে পুলিশ উদ্ধার করে নিয়ে আসে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিনভর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ঈদগাঁও–ঈদগড় সড়কটি ‘আতঙ্কের রুট’ হিসেবে পরিচিত হলেও সেখানে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। দিনের আলোয় একজন জনপ্রতিনিধির অপহরণের ঘটনায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
ঈদগড় ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন বলেন, ‘ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কে দীর্ঘদিন ধরে ডাকাতি ও অপহরণের ঘটনা ঘটছে। একজন ইউপি সদস্যকে অপহরণের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ডাকাতদলের সদস্যরা ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে ১০ টাকা মুক্তিপণ দেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দিয়েছে।’
একই দিন ভোরে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নে একটি রাবার বাগান থেকে তিন শ্রমিক অপহরণের ঘটনাও ঘটেছে। মুক্তিপণ ছাড়া তাদেরকে উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ।


