‘দ্যাশ স্বাধীনের পর এত বছরেও আমাগোরে এলাকায় কুনুদিন কুনু এমপি(সংসদ সদস্য) প্রার্থী আসে নাই। এমনকি কুনু সময় কুনু এমপিও আসে নাই। সে জন্যি আমারে এলাকায় কুনু উন্নয়নও হয় নাই।’ হতাশা নিয়েই কথাগুলো বলছিলেন সত্তোরোর্ধ কৃষক মোকছেদ সরকার।
পাবনার চাটমোহর উপজেলার হান্ডিয়ালের প্রায় যোগাযোগবিচ্ছিন্ন প্রত্যন্ত নলডাঙা গ্রামে তার বাস। গ্রামেরই একটি চায়ের দোকানে বসে বৃহস্পতিবার প্রতিবেদকের কথা হয় তার সঙ্গে।
তার কিছুক্ষণ আগে নৌকায় করে নেতাকর্মী সমর্থক নিয়ে বিলবেষ্টিত সেই গ্রামে গণসংযোগ করতে যান পাবনা-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দল কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা আলহাজ্ব হাসানুল ইসলাম রাজা। নলডাঙা ও স্থল গ্রামে গণসংযোগ চালান তিনি।
তারপরই মোকছেদ সরকার বলেন, ‘আমরা এখানে কিরম কইরে বাস করতিছি কেউ কুনুদিন খবরও লেয় নাই। ইবারই পরথম কুনু এমপি প্রার্থী আমারে গিরামে আইসলো।’
‘এরম মানুষ এমপি হলি দ্যাশের উন্নয়ন হবি’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গণসংযোগ শেষে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় সভায় হাসানুল ইসলাম রাজাও তুলে আনেন এই গ্রামের কথা। তিনি বলেন, ‘দেশ স্বাধীনের পরে এত বছর পার হলো, এত এমপি এল-গেল। অথচ এ গ্রামে কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। একটি কাঁচা রাস্তা পর্যন্ত হয়নি। এর চেয়ে দুঃখজনক আর কি হতে পারে!’
এতদিনেও এ গ্রাম পিছিয়ে থাকার কারণ এমপিদের কমিটমেন্ট না থাকা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কারণ তাদের বেশিরভাগই বহিরাগত ছিলেন। তাই এবার আমি আহ্বান জানাই, সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে স্থানীয় প্রার্থীকে এমপি হিসেবে দেখার আওয়াজ তুলুন।’
দল-মত, জাতি, ধর্ম, গোত্র নির্বিশেষে সবাইকে পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চাই, আমি পাবনা-৩ আসনের মানুষের শান্তি ও উন্নয়ন চাই। আমি এই এলাকা চাঁদাবাজ, দখলবাজ, সন্ত্রাসী ও অনিয়ম দুর্নীতি দূর করতে চাই। বহিরাগত কাউকে দিয়ে এলাকার উন্নয়ন সম্ভব নয়। নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে চাটমোহর থেকে এমপি প্রার্থী চাই।’
সেখানে চাটমোহর পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহরুল ইসলাম মাস্টারের সঞ্চালনায় সভায় চাটমোহর উপজেলা বিএনপির সাবেক কোষাধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম, চাটমোহর পৌর বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস মোল্লা, পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মোবারক হোসেন, হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইউনুস আলী ইনু উপস্থিত ছিলেন।


