জাহাজ নির্মাণ শিল্পের ঋণ সর্বোচ্চ ১০ বছর মেয়াদে বিশেষ পুনঃতফসিলের সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
নতুন এ সুবিধায় মোট ডাউন পেমেন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে তিন শতাংশ এবং প্রথম দুই বছর রাখা হয়েছে গ্রেস পিরিয়ড।
মঙ্গলবার থেকে এ নির্দেশনা কার্যকর হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে জারি করা সার্কুলার অনুযায়ী, নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কারণে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত রপ্তানিমুখী ও স্থানীয় জাহাজ নির্মাণকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো এ সুবিধার আওতায় আসবে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, প্রতিটি আবেদন সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ব্যাংকার–গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে পর্যালোচনা করবে এবং প্রতিটি কেসের গুণাগুণ বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত দেবে।
নীতিমালা অনুযায়ী, জাহাজ নির্মাণ শিল্প খাতে শ্রেণিকৃত ঋণ বা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে স্থগিত হিসাবে রাখা সুদ বা মুনাফা এবং অনারোপিত সুদ আলাদা ব্লকড হিসাবে স্থানান্তর করতে হবে। এরপর অবশিষ্ট মূল ঋণের ওপর তিন শতাংশ ডাউন পেমেন্ট আদায় সাপেক্ষে ঋণ সর্বোচ্চ ১০ বছর মেয়াদে বিশেষ পুনঃতফসিল করা যাবে।
এর মধ্যে ১ দশমিক ৫ শতাংশ পুনঃতফসিল আবেদনের সময় এবং অবশিষ্ট ১ দশমিক ৫ শতাংশ কার্যকর হওয়ার পরবর্তী ৬ মাসের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।
গ্রেস পিরিয়ড চলাকালে গ্রাহককে ঋণের বিপরীতে আরোপিত সুদ মাসিক বা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে পরিশোধ করতে হবে। একই সময়ে ব্লকড হিসাবে রাখা সুদ গ্রেস পিরিয়ড শেষে আলাদা মাসিক বা ত্রৈমাসিক কিস্তিতে সুদবিহীনভাবে পরিশোধ করা যাবে।
এর আগে বিআরপিডির একটি সার্কুলারের আওতায় যেসব জাহাজ নির্মাণ শিল্পের ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছিল, সেগুলোর জন্য নতুন করে বিশেষ পুনর্গঠন সুবিধা রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে দুই শতাংশ ডাউন পেমেন্ট আদায় সাপেক্ষে বিদ্যমান ঋণের মেয়াদের সঙ্গে সর্বোচ্চ দুই বছর যুক্ত করা যাবে।
ডাউন পেমেন্টের মধ্যে এক শতাংশ পুনর্গঠন আবেদনের সময় এবং অবশিষ্ট এক শতাংশ কার্যকর হওয়ার পরবর্তী ৬ মাসের মধ্যে দিতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, জাহাজ নির্মাণ শিল্পের ব্যবসা ও রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে নতুন ঋণ সুবিধা নেওয়ার সময় বিশেষ পুনঃতফসিলকৃত বা পুনর্গঠিত ঋণের বিপরীতে কোনো কম্প্রোমাইজ অ্যামাউন্ট দিতে হবে না।
সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, বিশেষ পুনঃতফসিলকৃত বা পুনর্গঠিত ঋণের কিস্তি মাসিক বা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে পরিশোধযোগ্য হবে। গ্রাহক কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে ঋণ যথানিয়মে শ্রেণিকৃত হবে।
একই সঙ্গে এসব ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে অশ্রেণিকৃত ঋণমানের জন্য প্রযোজ্য প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হবে এবং এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিতে হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট করেছে, জাল বা জালিয়াতির মাধ্যমে সৃষ্ট ঋণ এবং ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতারা এ বিশেষ সুবিধা পাবেন না।
পাশাপাশি বিশেষ পুনঃতফসিল কার্যকর হওয়ার পর নির্ধারিত ডাউন পেমেন্ট অথবা ছয়টি মাসিক কিংবা দুইটি ত্রৈমাসিক কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে ব্যাংক পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠন সুবিধা বাতিল করতে পারবে এবং ঋণ আদায়ের জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারবে।
এ ধরনের ঋণ ভবিষ্যতে আর কোনো পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠন সুবিধার আওতায় আসবে না।
সার্কুলার অনুযায়ী, আগামী ৩০ জুনের মধ্যে প্রাথমিক ডাউন পেমেন্ট নগদে জমা দিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কাছে পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠনের আবেদন করতে হবে। আবেদন পাওয়ার তারিখ থেকে পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে তা নিষ্পত্তি করতে হবে।
বিশেষ পুনঃতফসিল সুবিধা দেওয়ার আগে ব্যাংকগুলোকে বিশেষ পরিদর্শনের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে যে সংশ্লিষ্ট জাহাজ নির্মাণকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কারণে প্রকৃতপক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিনা। ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত হলে ব্যাংক নিজ বিবেচনায় ঋণকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে গুণগতমানে শ্রেণিকরণযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করতে পারবে।
ইসলামী শরীয়াহভিত্তিক পরিচালিত ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে শরীয়াহ নীতিমালা অনুসরণ করে তাদের প্রদত্ত বিনিয়োগের ওপর একই নির্দেশনা কার্যকর করতে বলা হয়েছে।


