পোল্ট্রি শিল্পে মারাত্মক সংকটের চিত্র তুলে ধরেছে বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন (বিপিআইএ)। সংগঠনটির দাবি, দেশের প্রান্তিক খামারিরা প্রতি ডিমে গড়ে চার টাকা করে লোকসান গুনছেন। ফলে প্রতি মাসে সামগ্রিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা।
এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে আগামী দুই বছরের মধ্যে তৃণমূলের অধিকাংশ খামারি ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হবেন, যার চূড়ান্ত খেসারত দিতে হবে ভোক্তাদের।
শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর আহমেদ চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিপিআইএ নেতারা এই আশঙ্কার কথা জানান। এর আগে খামারিরা তাদের ১১ দফা দাবি আদায়ে প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে পথচারীদের মাঝে সিদ্ধ ডিম বিতরণ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিপিআইএ এর সভাপতি মোশাররফ হোসেন চৌধুরী। তিনি উল্লেখ করেন, গত পাঁচ বছরে প্রায় ৬৪ হাজার খামারি এই খাত থেকে ঝরে পড়েছেন।
উৎপাদন খরচ বাড়লেও ডিমের বিক্রয়মূল্য না বাড়ায় খামারিরা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। সংকট উত্তরণে সংগঠনটি উৎপাদন খরচের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ডিমের একটি ন্যায্য বাজারমূল্য নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে, যাতে খামারিরা টিকে থাকতে পারেন।
প্রকৃত খামারিদের শনাক্ত করতে এবং সরকারি প্রণোদনা, ভর্তুকি ও স্বল্পসুদে ঋণ সরাসরি তাদের কাছে পৌঁছাতে একটি জাতীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ ও ‘ফার্মার আইডি’ চালুর দাবি জানানো হয়।
সংগঠনের মহাসচিব এম সাফির রহমান বলেন, খামারিদের খরচের একটি বড় অংশই যায় খাদ্যের পেছনে, তাই পোল্ট্রি খাদ্যের উপাদান আমদানিতে থাকা চার শতাংশ অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার করা জরুরি।
একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা দূর করতে একটি স্থায়ী ‘বাংলাদেশ জাতীয় পোল্ট্রি ডেভেলপমেন্ট বোর্ড’ গঠনের তাগিদ দেওয়া হয়।
সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ অঞ্জন মজুমদার জানান, বর্তমানে একটি ডিমের উৎপাদন খরচ দশ টাকা বিশ পয়সা থেকে সাড়ে দশ টাকা হলেও প্রান্তিক খামারিরা তা মাত্র ছয় থেকে সাড়ে ছয় টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
ডিম পচনশীল হওয়ায় তারা এটি মজুত করতে পারেন না। আর এই সুযোগ নিয়ে মধ্যস্থতাকারীরা মাত্র আটচল্লিশ ঘণ্টার ব্যবধানে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানে পোল্ট্রি খামারঘন অঞ্চলগুলোতে আধুনিক সংরক্ষণ ও বিপণন অবকাঠামো গড়ে তোলার পাশাপাশি প্রান্তিক খামারিদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা কর্মসূচি এবং পোল্ট্রি বিমা চালুর জোর দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিপিআইএর উপদেষ্টা এনসি বনিক, সহসভাপতি মেজবাউর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনসহ কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।


