‘জেন জি’ বিক্ষোভে ধরাশায়ী নেপাল সরকারের মন্ত্রীদের নিজ নিজ বাসভবন থেকে সরিয়ে নিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ দেশটির বিভিন্ন মন্ত্রীর বাসভবনে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নিরাপত্তা বিবেচনায় তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়।
কাঠমান্ডু পোস্টের খবরে বলা হয়, উত্তেজিত জনতার বিক্ষোভে মন্ত্রীদের সড়ক পথে সরিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এমন পরিস্থিতিতে তাদের নিজ নিজ বাসভবনের ছাদ থেকে হেলিকপ্টারের সাহায্যে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এদিকে দেশটির তরুণ ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি। বিক্ষোভকারীদের অন্যতম দাবিই ছিল এটি।
রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পাউডেলের কাছে জমা দেওয়া পদত্যাগ পত্রে কেপি শর্মা অলি লিখেছেন, ‘দেশে বিদ্যমান অস্বাভাবিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং সাংবিধানিক রাজনৈতিক সমাধান ও সমস্যা নিরসনের প্রচেষ্টাকে আরও এগিয়ে নিতে আমি সংবিধানের ৭৭(১)(ক) অনুচ্ছেদের অধীনে অবিলম্বে কার্যকর হওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করছি।’
এর আগে এ ঘটনার নৈতিক দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক, কৃষিমন্ত্রী রামনাথ অধিকারী ও পানিসম্পদ মন্ত্রী প্রদীপ যাদব।
ক্রমবর্ধমান দুর্নীতি ও সামাজিক মাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জেরে গত সোমবার থেকে উত্তাল হয়ে উঠে নেপালের তরুণ ছাত্র-জনতা। পরিস্থিতি সামাল দিতে সোমবার দুপুরে কারফিউ জারি করে দেশটির সরকার। সে কারফিউ উপেক্ষা করেই আন্দোলন চালিয়ে যায় বিক্ষোভকারীরা।
এক পর্যায়ে বিক্ষোভ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রাণ হারান অন্তত ১৯ আন্দোলনকারী। এতে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে তাদের সহযোদ্ধারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এদিন রাতেই মন্ত্রিসভার বৈঠকে সামাজিক মাধ্যমের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয় নেপাল সরকার।
এমনকি ভিডিওবার্তা পোস্ট করে বিক্ষোভে প্রাণহানির ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে শোক জানিয়ে পূর্ণ তদন্তের আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা। তবুও কারফিউয়ের মধ্যেই দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ চালিয়ে যান আন্দোলনকারীরা।


