বলিউড তারকা হৃতিক রোশন শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে নিজের ইনস্টাগ্রামে কয়েকটি ছবি শেয়ার করতেই শুরু হয় আলোচনা। ছবির চেয়ে বেশি আলোচনায় আসে তার ক্যাপশন। সেখানে হৃতিক লেখেন, “আমার ভেতরের ২৫ শতাংশ বাঙালি রক্তটাই বুঝি এভাবে প্রকাশ পেয়েছে।” এই এক লাইনের মন্তব্যেই নেটিজেনদের কৌতূহল—বাঙালির সঙ্গে হৃতিক রোশনের যোগসূত্রটা ঠিক কোথায়?
হৃতিক রোশনের জীবনে জানুয়ারি মাস বরাবরই বিশেষ। ১৯৭৪ সালের ১০ জানুয়ারি তার জন্ম। আবার প্রায় ২৬ বছর আগে এই জানুয়ারিতেই মুক্তি পেয়েছিল তার অভিষেক ছবি ‘কহো না প্যায়ার হ্যায়’। ২০০০ সালের ১৪ জানুয়ারি মুক্তি পাওয়া সেই সিনেমাই তাকে রাতারাতি সুপারস্টারে পরিণত করে। বয়স পঞ্চাশ পেরোলেও জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি; বরং নারীভক্তদের কাছে তিনি আজও বলিউডের ‘গ্রিক গড’।
তবে অনেকেই জানেন না, হৃতিকের শরীরেও বইছে বাঙালি রক্ত। ১৯৭৪ সালে মুম্বাইয়ে জন্ম নেওয়া হৃতিকের পরিবারের সাংস্কৃতিক শিকড় বেশ গভীর। তার বাবা রাকেশ রোশন বলিউডের পরিচিত মুখ হলেও বাঙালি যোগসূত্রটি এসেছে তার দাদি ইরা রোশন থেকে। ইরার জন্মনাম ছিল ইরা মৈত্র। মাত্র কুড়ি বছর বয়সে তিনি কলকাতা ছেড়ে অল ইন্ডিয়া রেডিওতে কাজ শুরু করেন। গান ছিল তার বড় নেশা। সেই সূত্রেই পরিচয় ও পরে বিয়ে হয় সংগীত পরিচালক রোশন লাল নাগরথের সঙ্গে।
দাম্পত্য জীবনে জন্ম নেয় দুই ছেলে—রাকেশ ও রাজেশ। রোশন লালের অকালমৃত্যুর পর ইরাই হয়ে ওঠেন পরিবারের শক্ত ভিত্তি। রান্না, বিশেষ করে মাছের পদ ছিল তার বিশেষত্ব। ছোটবেলা থেকেই হৃতিক ছিলেন তার নয়নের মণি। আদর করে নাতির ডাকনাম রাখেন ‘ডুগগু’। পরিবারের শেষ কথা বলতেন ইরাই—এমন কথাও শোনা যায়।
হৃতিক দাদিকে ডাকতেন ‘ঠামি’ বলে। যদিও তার কাছ থেকে বাংলা শেখা হয়নি, তবু কলকাতার সঙ্গে আবেগের বন্ধন আজও অটুট। কাকতালীয়ভাবে হৃতিকের প্রথম স্টেজ পারফরম্যান্সও হয়েছিল কলকাতায়। ২০০৫ সালের ২২ জানুয়ারি ইরা রোশনের মৃত্যুতে শৈশবের সেই আশ্রয় হারান হৃতিক। নতুন বছরের শুরুতে শেয়ার করা ছবিগুলো যেন তাকে আবার ফিরিয়ে নিয়েছে সেই সোনালি স্মৃতিতেই—মাছভাত, আদর আর শাসনের গল্পে।


