লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক আরিফুল ইসলামের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
বুধবার বিকালে দুর্গাপুর ইউনিয়নের গন্ধমরুয়া গ্রামে নিহতের বাড়িতে গিয়ে প্রথমে আরিফুল ইসলামের কবর জিয়ারত করেন মন্ত্রী। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সমবেদনা জানান।
এ সময় শিক্ষক আরিফুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন ত্রাণমন্ত্রী।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘এ ঘটনার বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হতে দেওয়া হবে না। সম্প্রতি নন্দিনী হত্যা মামলার রায়ের মতো আরিফুল হত্যার বিচারও দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।’
নিহতের পরিবার নিঃস্ব ও অসহায় হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আরিফুলের স্ত্রী ও দুই সন্তানের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে নিহতের স্ত্রীকে স্বাবলম্বী করতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, সমাজের আইনশৃঙ্খলা নষ্টকারী ও অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং সমাজকে অপরাধমুক্ত রাখতে প্রশাসন সচেষ্ট রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আরিফুল ইসলাম বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে এলাকায় মাদক ও অনলাইন জুয়াবিরোধী সচেতনতামূলক আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন। তিনি এলাকায় চিহ্নিত জুয়াড়ি চক্রের মূলহোতা রহিদুল ইসলাম ও তার সহযোগীদের জুয়া ও সামাজিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধের তাগিদ দেন এবং তা না হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবগত করার হুঁশিয়ারি দেন।
এর জেরে গত ১ আগস্ট বিকালে কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে নিজ বাড়ির কাছে রহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে আরিফুলের মাথায় কুপিয়ে জখম করে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল এবং পরে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় নিহত আরিফুলের বাবা আবু বক্কর সিদ্দিক বাদী হয়ে ২ আগস্ট ১০ জনের নাম উল্লেখ করে আদিতমারী থানায় মামলা করেন। ঘটনার পর পলাতক থাকা মামলার ১ নম্বর আসামি রহিদুলকে ১২ আগস্ট রাতে ঢাকার নয়াতলা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১৩। পরে তাকে আদিতমারী থানা-পুলিশের মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠায়।
টানা ২০ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ২১ আগস্ট সন্ধ্যায় আরিফুল মারা যান।
শিক্ষকের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত এলাকাবাসী জড়ো হয়ে কারাগারে থাকা আসামি রহিদুলসহ হামলায় জড়িতদের বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।


