বিএনপিকে ইঙ্গিত করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম বলেছেন, ‘আপনারা কি সেই হাসিনা হতে চান? তাহলে বলে দিন। আমরা হাসিনাকে যেভাবে বিদায় করেছি, যেভাবে লাথি দিয়ে ভারতে পাঠিয়েছি, ঠিক সেভাবেই আপনাদের সঙ্গেও ডিল করব।’
বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেট নগরীর চৌহাট্টা এলাকায় ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসংসদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত গণজমায়েতে তিনি এসব কথা বলেন।
সাদিক কায়েম বলেন, ‘এই “হ্যাঁ” মানে হলো জনগণের প্রকৃত ক্ষমতা জনগণের হাতেই তুলে দেওয়া। কৃষকের টাকা, শ্রমিকের টাকা, রিকশাচালকের টাকায় যে দেশ চলে, তাদের সন্তানকে আগামীর রাষ্ট্রনায়ক বানানোর জন্য ক্ষেত্র তৈরি করাই হলো “হ্যাঁ”-এর মূল উদ্দেশ্য।
তিনি আরও বলেন, ‘এই “হ্যাঁ” মানে হলো বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে যে গুম, খুন ও আয়নাঘরের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, সেই খুনি হাসিনা এবং তার দোসরদের বিচারের আওতায় আনা। একই সঙ্গে ফ্যাসিবাদী কাঠামো ভেঙে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিনির্মাণ করা।
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে দেশের ছাত্রসমাজ ও সাধারণ নাগরিকরা “হ্যাঁ”-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোটে প্রথম যে সিল পড়বে, সেটি হবে “হ্যাঁ”-এর পক্ষে।
এ সময় তিনি দাবি করেন, একটি রাজনৈতিক পক্ষ ‘না’-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ‘না’ মানে হচ্ছে ভারতের দালালি করা, দিল্লির দালালদের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং আবার গুম-খুন ও বিচারিক হত্যাকাণ্ডের রাজনীতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা।
সাদিক কায়েম বলেন, ‘জুলাই প্রজন্ম বেঁচে থাকতে ফ্যাসিবাদী রাজনীতি ও “না”-এর পক্ষে অবস্থানকারীদের কোনো জায়গা দেওয়া হবে না।’
তিনি বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, ‘দলটি শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার আদর্শ থেকে সরে এসে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও সন্ত্রাসের রাজনীতি ধারণ করছে।’
তিনি বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘নিজেদের ভুল সংশোধন করে জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করতে হবে এবং দ্রুত “হ্যাঁ”-এর পক্ষে ক্যাম্পেইন শুরু করতে হবে।’ অন্যথায় ১২ ফেব্রুয়ারির আগেই জনগণ তাদের বিরুদ্ধে গণরায় দেবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।


