কক্সবাজারের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে লিফট থেকে এক নারীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিঁখোজের চার দিন পর শনিবার ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত কোহিনুর আক্তার (৩২) উখিয়া উপজেলারইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড দক্ষিণ ডেইলপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি কাতার প্রবাসী নুরুল ইসলামের স্ত্রী।
স্বজনেরা জানিয়েছেন, গত বুধবার নিজের ৭ বছর বয়সী মেয়েকে চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন কোহিনুর। মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও ওই দিন বিকাল থেকে কোহিনুর হঠাৎ নিখোঁজ হন। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে খুঁজে না পেয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
নিহতের স্বামীর ভাতিজা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমার চাচিকে চার দিন ধরে পাওয়া যাচ্ছিল না। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেছি এবং র্যাব ও পুলিশকেও জানিয়েছি। আজ হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, নিখোঁজ হওয়ার দিন তিনি চারতলার লিফটে প্রবেশ করেছিলেন। এরপর তাকে আর বের হতে দেখা যায়নি।’
দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্ত করে বের করার দাবি জানান তিনি।
এ ঘটনায় জেলা সদর হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হাসপাতালে সেবা নিতে আসা মানুষ। তারা বলছেন, চার দিন ধরে একটি মরদেহ লিফটের নিচে পড়ে থাকা সত্ত্বেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা জানতে পারেনি। এটি চরম অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতার পরিচয়।
চিকিৎসা নিতে আসা খরুলিয়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী হোসেন বলেন, ‘এ ঘটনার দায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে। লিফটের নিয়মিত ত্রুটি পরীক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে হয়তো এমন দুর্ঘটনা ঘটত না। বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
এ বিষয়ে জানতে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মং টিংঞোর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমি উদ্দিন জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


