ময়মনসিংহে হাম উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম ও উপসর্গে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২ জনে।
বৃহস্পতিবার সকালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে। হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান জানান, মারা যাওয়া শিশুটির নাম আয়ান (১৫)। সে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাসিন্দা মো. পারভেজ মিয়ার ছেলে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ৫ মে হামের উপসর্গ নিয়ে আয়ানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার রাত ১১টা ১৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হামের পাশাপাশি অন্য জটিল রোগে আক্রান্ত থাকায় শিশুটির শারীরিক অবস্থা দ্রুত খারাপ হয়ে পড়ে।
এদিকে জেলায় ক্রমাগত বাড়ছে হামের প্রাদুর্ভাব। উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিন হাসপাতালে ভিড় করছে শিশুরা, বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২৪ শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১৭ শিশু। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১০২ জন শিশু।
হাসপাতালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৭ মার্চ থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ৩১৭ শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ হাজার ১৮৩ জন। মারা গেছে ৩২জন। ময়মনসিংহ জেলায় পরীক্ষাগারে পাঠানো ৪৭৬টি নমুনার মধ্যে ১২৩ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ শুরু হলেও মার্চের মাঝামাঝি থেকে তা ভয়াবহ আকার ধারণ করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতালের শিশু বিভাগে ৬৪ শয্যার পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। সেখানে তিনটি মেডিক্যাল টিম নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, হামের সঙ্গে অন্য জটিল রোগ যুক্ত হলে মৃত্যুঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। তাই অভিভাবকদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।


