দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে সারাদেশে ১ হাজার ১১০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে আর নিশ্চিত হামে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ১৩২ জন।
বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম এবং সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে জারি করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, ১০ জুন সকাল ৮টা থেকে ১১ জুন সকাল ৮টা পর্যন্ত হাম উপসর্গে যে ৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, তারা সবাই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। তবে এসময়ে নিশ্চিত হামে কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ৫৭ জন হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ১৪৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারাদেশে মোট ৬৮ হাজার ৫৬ জন হাম রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৬৪ হাজার ২৯৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। একই সময়ে দেশজুড়ে মোট ৮৩ হাজার ১৩৯ জন হাম উপসর্গ থাকা রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় ১০ হাজার ৫৯ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে। হাম উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত ৫৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নিশ্চিত হামে ৯২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যায় ঢাকা বিভাগ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। এ পর্যন্ত ঢাকা বিভাগে ৩৮ হাজার ৬৮৮ জন হাম উপসর্গ থাকা এবং ৬ হাজার ৯৫৯ জন নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ বিভাগে উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ২৩২ জনের এবং নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৫৬ জনের। আক্রান্তের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা চট্টগ্রাম বিভাগে ১৩ হাজার ৮৩৫ জনের শরীরে হামের উপসর্গ ও ৭৯১ জন নিশ্চিত রোগী শনাক্ত হয়েছে। সেখানে উপসর্গ নিয়ে ৪৭ জনের এবং নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের।
বরিশাল বিভাগে ৭ হাজার ৮৫০ জন উপসর্গ থাকা ও ৩১৭ জন নিশ্চিত রোগীর বিপরীতে উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু ৩৮ জনের এবং নিশ্চিত হামে মৃত্যু ১৯ জনের। রাজশাহী বিভাগে ৭ হাজার ১২৪ জন উপসর্গ থাকা ও ১ হাজার ১১৯ জন নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। সেখানে হাম উপসর্গ থাকা ৮৬ জনের এবং নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ২ জনের। খুলনা বিভাগে ৬ হাজার ৬৩ জনের উপসর্গ ও ২৮০ জন নিশ্চিত রোগী শনাক্ত হলেও কোনো নিশ্চিত মৃত্যু হয়নি, তবে উপসর্গ থাকা ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গ থাকা ৪ হাজার ২৯৬ জন ও ২৭৫ জন নিশ্চিত রোগীর মধ্যে উপসর্গ থাকা ৬৬ জনের এবং নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। ময়মনসিংহ বিভাগে ৩ হাজার ৬৮৮ জনের উপসর্গ ও ২৪৬ জন নিশ্চিত রোগী শনাক্ত হয়েছে। সেখানে উপসর্গ থাকা ৫০ জনের মৃত্যু এবং নিশ্চিত হামে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশের আটটি বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে কম আক্রান্ত রংপুর বিভাগে ১ হাজার ৫৯৫ জনের উপসর্গ ও ৭২ জন নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। সেখানে হাম উপসর্গ থাকা ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।


