ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীরকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ)।
রোববার সন্ধ্যায় বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
তবে বিষয়টি সম্পর্কে জানেন না বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম।
রোববার সন্ধ্যা ৭টায় তিনি টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘হাদি হত্যা মামলার কোনো আসামি ভারতে গ্রেপ্তার হয়েছে কি না, এ বিষয়ে তার জানা নেই।’

এদিকে মামলাটির অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পিছিয়ে আগামী ১১ মার্চ নির্ধারণ করেছেন আদালত। গত বৃহস্পতিবার প্রতিবেদন দাখিলের দিন থাকলেও তদন্ত সংস্থা অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তা জমা দিতে পারেনি। পরে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম নতুন এই তারিখ ধার্য করেন।
এর আগে গত ৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর ১৫ জানুয়ারি মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের নারাজি আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ শেষে নির্বাচনী প্রচার শেষ করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে হামলার শিকার হন হাদি। ওই দিন দুপুর ২টা ২০ মিনিটে পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট এলাকায় তার বহনকারী অটোরিকশা পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা দুষ্কৃতিকারীরা গুলি করে পালিয়ে যায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অপারেশনের পর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হলে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
তদন্ত শেষে গোয়েন্দা পুলিশ ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দেয়। এতে বলা হয়, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় ও হাদির বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণে প্রাথমিকভাবে ধারণা পাওয়া যায় যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়া ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করা এবং ভোটারদের মধ্যে ভয়ভীতি সৃষ্টি করাই ছিল হামলার উদ্দেশ্য।


