বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন বহাল রাখার দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো চলছে হরতাল। এর আগে একটি আসন কমানোর প্রতিবাদে জেলায় ৪৮ ঘণ্টার সর্বাত্মক হরতালের ডাক দেয় বিএনপি জামায়াতসহ সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটি।
সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির কো কনভেনর ও বাগেরহাট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ সালাম সর্বাত্মক হরতাল পালনের আহবান জানিয়ে এক গণ বিজ্ঞপ্তি জারি করেন।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সড়কে আগুন জ্বালিয়ে, বেঞ্চ পেতে, বাশ বেঁধে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে হরতাল কর্মসূচি পালন করছেন আন্দোলনকারীরা। এতে সড়ক-মহাসড়ক অবরুদ্ধ হয়ে দেশের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সমুদ্র বন্দর মোংলাসহ পুরো বাগেরহাট সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
মোংলা-ঘষিয়াখালী নৌ-ক্যানেল দিয়ে নৌ চলাচল বন্ধ রয়েছে। নদী পারাপারের খেয়া ট্রলার বন্ধ থাকায় নদীর দুই পাড়ে কর্মস্থলে যেতে ভোগান্তিতে পড়েন শত শত শ্রমিক ও যাত্রী।
এ দিকে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় বাগেরহাট কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড, দড়াটানা সেতুর দুপাশ, ফতেপুর বাজার, সিএন্ডবি বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে পণ্যবাহী ট্রাকের লম্বা সারি। ফলে ব্যবসায়ী ও চালকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
হরতালকারীরা জেলা, উপজেলার নির্বাচন অফিস ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ায় অফিসে ঢুকতে পারেননি কর্মকর্তা কর্মচারীরা। জেলার সব উপজেলা ও পৌর শহরগুলোতে সর্বাত্মক হরতাল পালিত হওয়ায় এলাকার দোকানপাট, ব্যবসা, ব্যাংক, বিমা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি অফিসের কার্যক্রম বন্ধ আছে।
এর আগে বুধবার সকালে শুরু হওয়া হরতালের সমর্থনে রাতেও সড়কে আগুন জালিয়ে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করে রাখা হয়।
সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও বিএনপি নেতা এমএ সালাম জানান, ‘নির্বাচন কমিশন যদি তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করে, আমরা পরবর্তীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করব।’
জেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইউনুস আলী জানান, ‘জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য আমরা রাজপথে থাকবো। প্রয়োজনে আমরা উচ্চ আদালতে যাব।’
তবে, হরতালের কারণে যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে বিপুল সংখ্যক পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
গত ৩০ জুলাই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ কারিগরি কমিটি খসড়া প্রস্তাবে বাগেরহাটের চারটি আসনের মধ্যে একটি কমিয়ে তিনটি রাখার প্রস্তাব দেয়। এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে জেলার রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনগুলো নির্বাচন কমিশনের শুনানিতেও অংশগ্রহণ করে। কিন্তু তাদের দাবিকে উপেক্ষা করে গত ৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে।
চূড়ান্ত গেজেট অনুযায়ী, বাগেরহাট-১ ( বাগেরহাট সদর-চিতলমারী-মোল্লাহাট), বাগেরহাট-২ (ফকিরহাট-রামপাল-মোংলা) ও বাগেরহাট-৩ (কচুয়া-মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা)। দীর্ঘদিন থেকে বাগেরহাটে ৪টি আসনে নির্বাচন হয়ে আসছিল। তখনকার সীমানা: বাগেরহাট-১ (চিতলমারী-মোল্লাহাট-ফকিরহাট), বাগেরহাট-২ (বাগেরহাট সদর-কচুয়া), বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মোংলা) বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা)।


