হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত বধ্যভূমির জায়গা দখল করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা বধ্যভূমিটি রক্ষায় এবং দখল উচ্ছেদে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীনতার পর থেকে শায়েস্তাগঞ্জ রেলস্টেশন সংলগ্ন ১৬ শতক জায়গার এই বধ্যভূমিতে নিয়মিত বিভিন্ন জাতীয় ও স্মৃতিচারণমূলক কর্মসূচি পালন করা হয়ে আসছে। তবে সম্প্রতি স্থানীয় বাগনীপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও জামায়াত কর্মী মকসুদ আলী এবং তার ছেলে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক লুৎফুর রহমান বধ্যভূমির একটি অংশে মাটি ভরাট শুরু করেন। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি মাটি ভরাটের পর সেখানে বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরাও করে ফেলায় স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে আসে বিষয়টি এবং চারদিকে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
বধ্যভূমিটি জবরদখলের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ হোসেন জানান, এই বধ্যভূমি মহান মুক্তিযুদ্ধের এক অমলিন স্মৃতি। স্বাধীনতার পর থেকেই এখানে নানা অনুষ্ঠান পালন করা হচ্ছে। অথচ হঠাৎ করে এর একটি অংশ মাটি ভরাট করে বাঁশের বেড়া দেয়া হয়েছে। এ অন্যায়ের প্রতিবাদে মুক্তিযোদ্ধারা কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবেন বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
একই সুরে কথা বলেছেন হবিগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য সচিব হুমায়ূন কবির। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জায়গাটি বধ্যভূমি হিসেবে তাদের কাছে প্রয়োজনীয় নথিপত্র রয়েছে। তিনি অনতিবিলম্বে এই অবৈধ দখল উচ্ছেদে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা দাবি করেন।
এদিকে জায়গা দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত যুবদল নেতা লুৎফুর রহমান। তিনি দাবি করেন, তারা কোনো জায়গা দখল করেননি বরং এটি তাদের নিজস্ব জায়গা।
লুৎফুর রহমানের ভাষ্যমতে, ১৯৮৯ সালে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তারা ২ শতক জায়গা সরকারিভাবে বন্দোবস্ত নিয়েছেন এবং সেই বৈধ জায়গায় তারা বেড়া দিয়েছেন। তাদের কাছে এর স্বপক্ষে সব ধরনের কাগজপত্র রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিক কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যারা বধ্যভূমির জায়গা দখলের চেষ্টা করছে, তাদের অচিরেই উচ্ছেদ করা হবে। বিষয়টি ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটি এবং জেলা প্রশাসনকে গুরুত্বের সাথে জানানো হয়েছে। প্রশাসন থেকেও দখলদারদের উচ্ছেদের ব্যাপারে আশ্বাস প্রদান করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ হোসেন জানান, বিষয়টি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা এবং অভিযুক্ত পক্ষ—উভয়ের সাথেই কথা হয়েছে। যেহেতু দুই পক্ষই জায়গাটির মালিকানা নিয়ে নথিপত্র থাকার দাবি করছে, তাই প্রশাসন বর্তমানে উভয় পক্ষের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করছে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখে খুব দ্রুতই বিষয়টি আইনানুগভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে।


