হবিগঞ্জ সদর ও বাহুবল উপজেলার সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ আব্দাবকাই-কটিয়াদি সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি ও কাদা জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে অন্তত ২০টি গ্রামের লাখো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, হবিগঞ্জ সদর উপজেলার শরীফপুর, হামিদপুর, উত্তর সুলতানশী, সুলতানশী, হাতিরথান, চাঁনপুর, আব্দাবকাই, আউশপাড়া, রঘুদয়াল ও রাধানন্দসহ বাহুবল উপজেলার যমুনাবাদ, বনদক্ষিণ, তারাপাশা, কাজিহাটা, নন্দনপুর, ভাতকাটিয়া ও শিবপাশাসহ আশপাশের এলাকার মানুষ প্রতিদিন এ সড়ক ব্যবহার করেন। কটিয়াদি বাজারের দুটি স্ট্যান্ড থেকে প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ সিএনজি ও টমটম চলাচল করে এ পথে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের আব্দাবকাই পয়েন্ট, রঘুদয়াল, হাতিরথান মসজিদ মার্কেট, হাতিরথান গ্রামের প্রবেশমুখ, ধোপাখাল বাজার ও কটিয়াদি বাজার এলাকায় পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে এসব স্থান কাদাময় হয়ে পড়ায় যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা অ্যাডভোকেট মইনুল হাসান দুলাল বলেন, জরুরি ভিত্তিতে কয়েকবার সংস্কার করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই আবার গর্ত তৈরি হচ্ছে। স্থায়ী সংস্কার ছাড়া এ সমস্যার সমাধান হবে না।
ধোপাখাল বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুর রশিদ বলেন, সংস্কারের পর কিছুদিন চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও এক-দুই মাসের মধ্যেই আবার সড়কের অবস্থা খারাপ হয়ে যায়।
কটিয়াদি বাজার টমটম মালিক-শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি কাছুম আলী জানান, প্রতিদিন শত শত যানবাহন চলাচলের পাশাপাশি ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানও এ সড়ক ব্যবহার করে। বর্তমানে সড়কটি প্রায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
টমটমচালক ইমন মিয়া বলেন, কটিয়াদি থেকে আব্দাবকাই পর্যন্ত যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার মুখে পড়তে হয়। অনেক সময় রোগীদের সময়মতো হাসপাতালে নেওয়াও সম্ভব হয় না।
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর উপজেলা প্রকৌশলী মুহাম্মদ ইরাজ উদ্দিন দেওয়ান বলেন, ‘সড়কের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ অবগত রয়েছে। দ্রুত গুরুত্ব দিয়ে সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।’


