হত্যা মামলায় আসামিদের গ্রেপ্তার না করার অভিযোগ

হত্যা মামলায় আসামিদের গ্রেপ্তার না করার অভিযোগ
অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না করার অভিযোগ নিহতের পরিবারের আহাজারি | ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

পাবনায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকে হত্যার অভিযোগে আদালতে করা মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে অভিযোগ নিহতের পরিবারের।

রোববার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে নিহতের পরিবার এমন অভিযোগ করেন। তারা বলেন, হত্যা মামলার প্রায় পাঁচ মাস হলেও অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

নিহত নাফিউল করিম সোহান (২৩) পাবনার ফরিদপুর উপজেলার দিঘুলিয়া গ্রামের রেজাউল করিম-নাসিমা আক্তার দম্পতির সন্তান।

নিহত গণবিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ৪৩তম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন। তার মা পেশায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।

সংবাদ সম্মেলনে নাফিউলের মা জানান, বাড়ির সামনে জমি কেনার পর থেকে তাদের বিরোধ দেখা দেয় নাফিউলের চাচা ইব্রাহিম হোসেন-নজরুল ইসলাম এবং চাচাতো ভাইদের সঙ্গে। এর জেরে গত ২৪ এপ্রিল ওই জমির মাটি কাটা নিয়ে ঝগড়া বাধায় তারা। এর সঙ্গে নাফিউলকে হত্যার হুমকি দেয় অভিযুক্তরা।

কয়েকদিন পর ৫ জুন নাফিউল ছুটিতে বাড়িতে আসলে ৯ জুন সকালে ঘুম থেকে উঠে ছেলের মরদেহ দেখতে পান তার বাবা-মা।

৮ ‍জুন রাতের কোনো এক সময় নাফিউলকে তার চাচা ও চাচাতো ভাইয়েরা মিলে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেন নাফিউলের পরিবার।

তারা আরও জানান, নাফিউলকে স্থানীয় হাসপাতাল থেকে মৃত ঘোষণা করার পর তাকে গণবিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল হাসপাতালে নিতে চাইলে বাধা দেন অভিযুক্তরা।

আরও পড়ুন

পরে নিহতের পরিবারের অনুমতি ছাড়াই মরদেহ গোসল করিয়ে তড়িঘড়ি করে জানাজা দাফন সম্পন্ন করেন তারা।

ঘটনার পর নিহতের পরিবার থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা না নিয়ে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন।

নিহতের মৃত্যুর প্রায় দুই মাস পর ৪ আগস্ট তার মা নাসিমা আক্তার বাদী হয়ে পাবনার জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি হত্যা মামলা করেন।

এ মামলায় নাফিউলের চাচা ইব্রাহিম হোসেন, নজরুল ইসলাম, চাচাতো ভাইসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযুক্তরা নিহতের পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলেও দাবি জানান নিহতের মা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফরিদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাকিউল আযম জানান, প্রথমে নাফিউলের স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে দাফন করা হয়েছিল। ওই সময় থানায় কোনো সাধারণ ডয়েরি বা মামলা করেননি তার পরিবার।

সম্প্রতি তারা আদালতে একটি মামলা করেছেন জানিয়ে ওসি বলেন, ‘সেই মামলার পঞ্চম আদেশে গত থানায় মামলা করে তদন্তের আদেশ দেন আদালত। আমরা গত ৫ ডিসেম্বর মামলা রুজু করেছি। তদন্ত চলছে।’

তদন্তের জন্য মরদেহ তুলে ময়নাতদন্ত করতে হবে উল্লেখ করে তিনি জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বোঝা যাবে নাফিউলের মৃত্যু কীভাবে হয়েছে।

পুলিশ আসামি ধরছে না এমন মন্তব্যের প্রসঙ্গে ওসি শাকিউল আযম জানান, এ কথা ঠিক নয়। কারণ থানায় তো তারা মামলা করেনি। আদালতের আদেশে মামলা হয়েছে। তদন্তে প্রমাণ পেলে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হবে।

এদিকে মামলার প্রধান অভিযুক্ত ইব্রাহিম হোসেন জানান, ‌‌এলাকার সব মানুষ জানে ছেলেটা মারা যাওয়ার পর তারা নিজেরা ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেছে। সেখান থেকে ঘুরে এসে এলাকার মানুষজন দাফন কাফন করেছে।

নিহতের পরিবারের অভিযোগকে মিথ্যা দাবি করে তিনি বলেন, ‘ছেলেটা কীভাবে মারা গেছে আমরা নিজেরাও জানি না। এর আগে পুলিশ এসে একবার সব জেনে গেছে। আদালতে মামলা করেছে বলে শুনেছি।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর