বিএনপি সরকারে আসার পর ডিসি সম্মেলনের প্রথম দিন স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) আলোচনা হয়েছে।
এসব আলোচনায় মাঠ পর্যায়ের সমস্যা তুলে ধরে ডিসিরা ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। অন্যদিকে, মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মাঠ পর্যায়ের সমস্যা কীভাবে সমাধান করতে হবে, সে বিষয়ে নানা নির্দেশনা দেওয়া হয়।
রোববার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এতে ৬৪ জেলার ডিসিরা ছাড়াও অংশ নেন বিভাগীয় কমিশনাররা।
সরকার প্রধানের বক্তব্যে তার সরকারের উদ্দেশ্য ও কর্মপরিকল্পনার কথা উঠে আসে। বিকালে তিন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলাদা আলোচনা হয় ডিসিদের।
ডাক্তারের অনুপস্থিতি, অ্যাম্বুলেন্স ঘাটতি নিয়ে সরব
ডিসিদের সঙ্গে আলোচনার পর প্রথমে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। জানান, ডিসিরা স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘদিনের নানা সমস্যাগুলো তুলে ধরেছেন।
ডিসিরা বলেছেন, রাতে রোগীরা অ্যাম্বুলেন্স পাযন না। ওষুধের ঘাটতিও রয়েছে হাসপাতালগুলোতে। এটার সঠিক কোনো হিসাব থাকে না।
কোন হাসপাতালে কত ওষুধ রয়েছে, সেটি ডিসপ্লে করারও তাগিদ দিয়েছেন ডিসিরা। তারা বলেছেন, চিকিৎসক ঠিকমত থাকে না। লিয়েনে ডেপুটেশনে ডাক্তার বাইরে অনেক। একেও গুরুতর সমস্যা হিসেবে তুলে ধরেছেন তারা।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ডিসিদেরকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে অ্যাম্বুলেন্সের অভাব দূর করা, ক্লিনিকগুলোতে যাতে ভুল চিকিৎসা না হয় সেজন্য মোবাইল কোর্ট বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে দালালি বন্ধ করতেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কেউ যাতে ভেজাল ওষুধ বিক্রি করতে না পারে সে বিষয়েও ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। শিশুদের বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্য মায়েদের সচেতনতা বৃদ্ধিতেও ডিসিদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
সামনে ডেঙ্গু আসছে বলে সতর্ক করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে ডিসিদের সহযোগিতা চাওয়ার কথাও বলেন মন্ত্রী।
সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘হামে আক্রান্ত শিশু মৃত্যুর হার কমে এসেছে। এখন পর্যন্ত ৮১ শতাংশ শিশুকে হামের দেওয়া হয়েছে। দু-চারদিনের মধ্যে ১০০ শতাংশ টিকা দেওয়া শেষ হলে আক্রান্ত ও মৃত্যুসংখ্যা আরও কমে আসবে।’
সিভিল সার্জনদের সঙ্গে বসে স্বাস্থ্যের সেবার পরিধি যাতে আরও বাড়ানো যায় সে ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়ার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘সাপের কামড়ে যাতে মানুষ মারা না যায়, সেজন্য অ্যান্টিভেনম পর্যাপ্ত রাখার কথা বলা হয়েছে।’ ‘টিকার ঘাটতি যাতে না হয়, সবসময় স্টকের প্রতি খেয়াল রাখা এবং এটাকে আরও সুন্দরভাবে দৃষ্টি রাখা যাতে একটা জলাতঙ্কের রোগী যেন ফেরত না যায়,’ বলেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কী কথা
পরে ডিসিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন। তিনি বলেন, ‘জিপিএ ফাইভ পাওয়ার জন্য অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা অস্থির হয়ে যায়। এখান থেকে কি বেরিয়ে আসা যায় না?’
ডিসিরা মন্ত্রীকে বলেছেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে খেলাধুলার মাঠ নেই। পরীক্ষার জন্য হলও নেই। ‘আমরা তো এবার প্রজেক্ট নিয়েছি প্রত্যেকটি উপজেলায় মাল্টিপারপাস এক্সামিনেশন হল করব। ছাত্রছাত্রীদের অনেক অসুবিধা হচ্ছে সেগুলির কথা হলো। আমাদের প্রচুর প্রবলেম রয়েছে,’ বলেন মন্ত্রী।
সরকার কওমি মাদ্রাসাগুলোর জন্য একটা নীতিমালা করার উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ নিয়ে কওমি মাদ্রাসার প্রতিনিধিদের সঙ্গে তিনি তিন দফা কথা বলেছেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘তারা সলিড প্রস্তাব দেবে যে এসএসসি কোন লেভেল হচ্ছে, কোন লেভেলে ইন্টারমিডিয়েট, কোন লেভেল ডিগ্রি এবং কোন লেভেল দাওরা, সরকার এটা করবে।’
অনিয়মের কথা আইন মন্ত্রণালয়কে জানানোর নির্দেশ
মাঠ পর্যায় কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতি হলে আইন মন্ত্রণালয়কে জানানোর জন্য ডিসিদের নির্দেশ দেওয়ার কথা জানিয়েছে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেন, সরকারের সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়ে অনেক ফাইল আসতে দেরি হয়, এইটা যাতে না হয় সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে।


