ঝিনাইদহে স্বামীর কাঠের আসবাব তৈরির কারখানা থেকে তাছলিমা খাতুন(৩৮) নামে এক নারীর মুখ বাঁধা ও অর্ধগগ্ন মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শহরতলীর ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে গোপিনাথপুর পশ্চিমপাড়ার লাল মিয়ার আসবাব কারখানা থেকে রোববার রাত ১১টার দিকে পুলিশ ওই মরদেহ উদ্ধার করে।
পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। নিহত ওই নারী লাল মিয়ার স্ত্রী। রোববার দুপুর থেকে লাল মিয়াও নিখোঁজ রয়েছেন, তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পরিবার।
লাল মিয়ার ছোট ভাই আব্দুস সালাম জানান, তার ভাবি প্রায় ভাইয়ের কারখানায় বেলা ১১ টার দিকে খাবার নিয়ে আসতো। রোববারও এসেছিল। এছাড়া তারা দুজন মোটরসাইকেলে করে মাঝে মাঝে বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে যেত। কিন্তু বিকাল গড়িয়ে গেলে দুজনের একজনও বাড়ি ফেরেনি।
তিনি আরও জানান, সন্ধ্যার দিকে তাছলিমা খাতুনের ছেলে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে কারখানায় আবার খুঁজতে আসেন। কারখানা বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। কিন্তু দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট কারখানার একটি রুমে খাটের উপরে চাদর দিয়ে ঢাকা অবস্থায় নারীর চুল দেখে সন্দেহ হলে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেয়।
এরপর পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, র্যাব সিপিসি-২ এর কোম্পানি কমান্ডার, ঝিনাইদহ পিবিআই পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ঘটনাস্থল থেকে মরদেহের সুরতহাল তদন্ত করেন সদর থানার এসআই ডলি জানান, ধারণা করা হচ্ছে, শিশুদের ব্যবহৃত স্কুল ড্রেসের স্ট্রাইপ গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়াও মাথায় কাঠের দণ্ড দিয়ে আঘাত করা হয়েছে।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘এই ঘটনায় স্বামীকে সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়েছে। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে। মরদেহ দাফনের পর ভুক্তভোগীর পরিবারের মাধ্যমে মামলা দায়ের করা হবে।’


