কক্সবাজার থেকে সেন্ট মার্টিনগামী জাহাজে যাত্রাবিলম্ব হওয়াকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিলা তাসনিমকে প্রকাশ্যে গ্রেপ্তারের হুমকি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘প্রশাসনিক কর্মকর্তা’ পরিচয়ে এক পর্যটক।
শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে শহরের নুনিয়ারছড়ার বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
ভিডিওতে দেখা যায়, জাহাজের সময়সূচি নিয়ে ক্ষুব্ধ একদল পর্যটক ইউএনও এবং জাহাজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় এক পর্যটক নিজেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা দাবি করে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যকে ইউএনওকে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানজিলা তাসনিম জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক পরিবহনের নিয়ম রয়েছে। এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করছে। দায়িত্ব পালনের সময় হঠাৎ এক পর্যটক তাকে গ্রেপ্তারের হুমকি দেন।
ঘটনার বিস্তারিত জানানোর সময় তিনি বলেন, ‘কিছু পর্যটক অভিযোগ করছিলেন যে তাদের জাহাজ নির্ধারিত সময়ের আগে ছেড়ে গেছে। বিষয়টি জানতে চাইতেই ইব্রাহীম নামে এক ব্যক্তি নিজেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে সেখানে থাকা পুলিশ সদস্যকে নির্দেশ দেন আমাকে গ্রেপ্তার করার।’
এমন আচরণের ভিডিও সংরক্ষিত আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তিনি হয়তো আমাকে চিনতে পারেননি। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা হলেও কাউকে এমনভাবে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দেওয়ার এখতিয়ার তার নেই।’
এ সময় ইব্রাহীম নামে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘আমি স্যারকে চিনতে না পারায় দুঃখিত। আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কর্মরত। আমাদের টিকিটে সকাল ৭টার সময় লেখা ছিল। কিন্তু ঘাটে এসে শুনি জাহাজ ৬টায় ছেড়ে গেছে।”
এ বিষয়ে সীক্রুজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানান, নদীর নাব্যতা ও জোয়ার-ভাটার কারণে জাহাজের সময়সূচি পরিবর্তন হতে পারে। বেক্রুজ নামের জাহাজটি নাব্যতার কারণে ঘাট পরিবর্তন করে অন্য ঘাটে চলে যায়।
এ সময় পর্যটকরা মনে করেছিলেন জাহাজটি ছেড়ে গেছে। পরে কেয়ারি সিন্দাবাদ নামের অন্য জাহাজে করে ওই কর্মকর্তা ও তার সঙ্গে থাকা আরও ১১ জন পর্যটক সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে রওনা হন।
চলতি মৌসুমে ১ ডিসেম্বর থেকে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত পর্যটকরা প্রবালদ্বীপে রাত্রীযাপনের সুযোগ পাবেন। দ্বীপের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকার ঘোষিত ১২ দফা নির্দেশনা পর্যটকদের মেনে চলতে হবে।


