চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) রেলক্রসিং এলাকায় স্থানীয়দের হামলায় সময় টিভির এক ক্যাম্পাস সাংবাদিকসহ যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।হামলায় সময় টিভির সাংবাদিক জাহিন সরকার আবিরের বাম হাত ভেঙে গেছে বলে জানা গেছে।
শুক্রবার রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেলক্রসিং গেইট সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, রাত ১০টার দিকে যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ছয় থেকে সাতজন শিক্ষার্থী ইসলামিয়া হোটেলে খাবার খেয়ে ক্যাম্পাসে ফেরার জন্য রেলক্রসিং এলাকায় বাসের অপেক্ষায় ছিলেন। বাস আসলে শিক্ষার্থীরা আনন্দ-হুল্লোড় করতে করতে বাসে উঠতে এগিয়ে যান।
এ সময় ইমন নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি তাদের দিকে তেড়ে আসেন। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ইমন ও তার সহযোগীরা শিক্ষার্থীদের গালিগালাজ করতে থাকেন।
সময় টিভির ক্যাম্পাস সাংবাদিক জাহিন সরকার আবির পুরো বিষয়টি ভিডিও করছিলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হামলাকারীরা তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় এবং তাকে গালিগালাজ করে। আবির নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এ সময় হামলাকারীরা আবিরকে লাঠিসোটা দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। এতে তার বাম হাত ভেঙে যায়। একই ঘটনায় যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আলিমুল শামীম এবং তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. আশিকুর ইসলামও আহত হন।
মারধরের শিকার আলিমুল শামীম বলেন, ‘আমরা হোটেলে খাবার খেয়ে ক্যাম্পাসে ফিরতে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। বাস এসে কিছুটা সামনে এগিয়ে থামলে আমরা হুল্লোড় করে বাসে উঠতে এগিয়ে যাচ্ছিলাম। তখন স্থানীয় কয়েকজন আমাদের গালিগালাজ শুরু করে। আমরা ছয়জন ছিলাম। আমাদের জুনিয়র আশিক প্রতিবাদ করলে তারা তার দিকে তেড়ে আসে। এ সময় সাংবাদিক আবির ভিডিও করা শুরু করলে তারা তার ফোন নিয়ে নেয়। আবির নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও তাকে মারধর শুরু করে এতে তার হাত ভেঙে যায়। পরে আশিককেও মারধর করা হয়।’
এ ঘটনায় যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা হামলাকারীকে এক ঘন্টার মধ্যে গ্রেপ্তার অথবা তার অভিভাবকদের ক্যাম্পাসে উপস্থিত করার দাবি জানায়।
আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর গুরুতর অবস্থার কারণে জাহিন সরকার আবিরকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের দায়িত্বরত চিকিৎসক মোহাম্মদ আবুল কাশেম বলেন, ‘প্রথমে দুইজন আসে। তাদের মধ্যে আবির নামের একজনের বাম হাতের উপরের অংশে গুরুতর আঘাত রয়েছে। এক্স-রে প্রয়োজন হওয়ায় তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। আশিকুর নামের আরেকজনের ঘাড় ও বাম হাতে আঘাত রয়েছে। তাকে আপাতত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আহত আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আল্-ফুরকান বলেন, ‘ঘটনাটি জানার সঙ্গে সঙ্গে আমি প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলা হয়েছে।’
ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযানে নামে। হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান বলেন, ‘২৪ ঘন্টার মধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।’
শুক্রবার রাত ১২টার পর থেকেই অভিযানের প্রস্তুতি নিয়ে পুলিশের পাশাপাশি র্যাবের দুটি টিমও ঘটনাস্থলে অভিযান চালাচ্ছে বলেও জানান তিনি।


