দেশের ১২শ কিলোমিটার নৌপথে খনন কাজ চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন নৌমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক রাখতে মহাসড়কের ২০৭টি স্পটে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার বেলা ১২টায় বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় গোমা সেতুর উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
নৌমন্ত্রী জানান, ঈদযাত্রায় যানজট হতে পারে এমন ২০৭টি স্থানে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে। পাশাপাশি হাইওয়ে ও সেতুতেও মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোথাও বড় ধরনের যানজট নেই বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘কয়েকটি স্থানে গাড়ির গতি ধীর হলেও চলাচল বন্ধ হয়নি। আশা করা হচ্ছে, এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ হবে এবং মানুষ নির্বিঘ্নে ঘরে ফিরতে পারবে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘বর্তমানে প্রায় ৭ হাজার ৫০০ কিলোমিটার নৌপথ নিয়মিত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে সচল রাখা হচ্ছে। এর মধ্যে ১২শ কিলোমিটার নৌপথে খনন কাজ চলমান রয়েছে। ভবিষ্যতে আরও ৪ হাজার ৫০০ কিলোমিটার নৌপথ উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।’
তিনি জানান, ঢাকা সদরঘাট থেকে বরিশাল নদীবন্দর পর্যন্ত অবাধে নৌযান চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
নৌমন্ত্রী বলেন, ‘ঈদকে সামনে রেখে ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ মানুষ ঢাকা ছাড়বে, যা বড় চ্যালেঞ্জ। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় নেওয়া প্রস্তুতির ফলে যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন।’
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত এবং উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কাজ করছে। অবকাঠামো উন্নয়ন ছাড়া দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
উদ্বোধন করা গোমা সেতু সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রায় ২৮৩ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটি বাকেরগঞ্জ অঞ্চলের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
২০১৮ সালে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া নদীর ওপর সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। বিভিন্ন জটিলতার কারণে নির্মাণে বিলম্ব হয়। অবশেষে ৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ সম্পন্ন হয়।
সেতু উদ্বোধনের পরপরই যান চলাচল শুরু হয়। ঈদের আগে সেতু চালু হওয়ায় স্থানীয়রা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে রেলপথ ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


