যশোরের অভয়নগরে স্ত্রীহত্যার মামলায় মো. আবদুল্লাহকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল আদালত। প্রায় ৮ বছর পর ওই মৃত্যুদণ্ড থেকে তাকে খালাস দিয়েছে হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার ডেথ রেফারেন্স ও জেল আপিল শুনানি শেষে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কেএম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে গঠিত হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চের এটিই প্রথম রায়।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির ও ইমাম হোসেন তারেক। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী তাসাদ্দর রায়হান খান।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনাস্থলে আসামির উপস্থিতি প্রমাণ করতে রাষ্ট্রপক্ষ ব্যর্থ হয়েছে। যথাযথ সাক্ষ্যের অভাব ও তদন্তে ত্রুটি থাকায় আবদুল্লাহর সংশ্লিষ্টতা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি। এতে নিম্ন আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বাতিল করে হাইকোর্ট আসামিকে খালাস দিয়েছেন।
নথি অনুযায়ী, ২০০৮ সালের ১৫ জানুয়ারি বিকেলে যশোরের অভয়নগরে নিজ ঘরে অগ্নিদগ্ধ হন গৃহবধূ সবুরা বেগম। ১৬ জানুয়ারি হাসপাতালে তিনি মৃত সন্তান প্রসব করেন। ২১ জানুয়ারি সবুরার বাবা সামছুর শেখ জামাতা আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা করেন। ২২ জানুয়ারি সবুরা জবানবন্দি দেন। ২৮ জানুয়ারি তিনি মারা যান। এই মামলায় ২০১৯ সালে যশোরের নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল-১ আবদুল্লাহকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নিয়মানুসারে মামলাটি ডেথ রেফারেন্সে হাইকোর্টে আসে। আসামি আবদুল্লাহও জেল আপিল করেন।
গত ১ জুন ‘টাইমস অব বাংলাদেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নিম্ন আদালত দ্রুত রায় দিলেও উচ্চ আদালতের দীর্ঘসূত্রতায় তা আটকে যায়। বিশেষ করে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সময় লাগার বিষয়টি আলোচনায় আসে। প্রতিবেদনে আইন বিশেষজ্ঞরা বিশেষ বেঞ্চ গঠনের ওপর জোর দেন। এরপর ১০ জুন প্রধান বিচারপতি এই বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন। ১৪ জুন এই মামলার শুনানি শুরু হয়।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক বলেন, ‘বাড়িতে আগুন লাগার পর প্রতিবেশী ভিকটিমকে উদ্ধার করে। ২২ জানুয়ারি সবুরা বেগম ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দি দেন। হাত-পা বেঁধে মুখে কাপড় গুঁজে স্বামী আগুন লাগিয়েছেন বলে মামলায় অভিযোগ ছিল। বিচার শেষে বিচারিক আদালত স্বামীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল।’
খালাসের কারণ প্রসঙ্গে এই আইনজীবী বলেন, ‘যৌতুকের দাবিতে মৃত্যুর অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে পারেনি। ভিকটিম অগ্নিদগ্ধ হওয়ার পর হাসপাতালে যে মৃত সন্তান প্রসব করেন, তাকে স্বামীই রিসিভ করেছিলেন। স্বামী আগুন লাগালে পালিয়ে যেতেন। স্বামী ঘটনাস্থলে ছিলেন বা ঘর থেকে বেরিয়ে গেছেন, প্রসিকিউশন তা প্রমাণ করতে পারেনি। কী দিয়ে আগুন লাগানো হয়েছে, তাও মেলেনি। স্বামী সেখানে উপস্থিত ছিলেন, কোনো সাক্ষী এমন একটি বাক্য বললেও সর্বোচ্চ সাজা হতো। ঘটনাটি ঘটেছে দিনের বেলা। আগুনে পুরো বসতবাড়ি পুড়ে গেছে, শুধু ভিকটিম নন।’


