সোহানুর রহমান সোহানের ছবি মানেই ঢাকার চলচ্চিত্রে নতুন তারকার আবিষ্কার। মৌসুমী, সালমান শাহ, পপি থেকে শুরু করে আজকের শাকিব খান—সোহানের ছবিতে অভিনয় করেই এসব তারকার চলচ্চিত্রজীবন শুরু হয়। গুণী এ নির্মাতা ২০২৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর না ফেরা দেশে চলে যান।
সোহান ১৯৭৭ সালে পরিচালক শিবলি সাদিকের সহকারী হিসেবে তার চলচ্চিত্র কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি শহীদুল হক খানের কলমিলতা (১৯৮১), এজে মিন্টুর অশান্তি (১৯৮৬) ও শিবলি সাদিকের ভেজা চোখ (১৯৮৮) চলচ্চিত্রে সহকারী হিসেবে কাজ করেন।
পরিচালক হিসেবে তার প্রথম চলচ্চিত্র বিশ্বাস অবিশ্বাস (১৯৮৮)। তবে ১৯৯৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবি দিয়ে তিনি নির্মাতা হিসেবে পরিচিতি পান। এ ছবির মধ্য দিয়ে বাংলা চলচ্চিত্র সালমান শাহ ও মৌসুমীর মত দুই তারকাকে পায়।
যারা পরবর্তীতে দেশের চলচ্চিত্রে এক যুগান্তকারী যুগ শুরু করেন। এই সিনেমা শুধুমাত্র বাণিজ্যিকভাবে সফল ছিল না, এটি এক প্রজন্মের ভালোবাসা, আবেগ এবং সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে।
সোহানুর রহমান সোহান মূলত রোমান্টিক ও পারিবারিক গল্পনির্ভর চলচ্চিত্র নির্মাণে দক্ষ ছিলেন। তার সিনেমাগুলোতে সমাজের বাস্তবতা, সম্পর্কের জটিলতা, এবং মানুষের আবেগকে তিনি অত্যন্ত সহজ ভাষায় উপস্থাপন করতেন। তার চিত্রনাট্যে সংলাপগুলো হৃদয় ছুঁয়ে যেত এবং গানগুলো হয়ে উঠত সময়ের শ্রেষ্ঠ সংগীত।
তার পরিচালিত অন্যান্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে অনন্ত ভালোবাসা, তোমার জন্য পাগল, আমার ঘর আমার বেহেশত ইত্যাদি। তিনি নবীন শিল্পীদের সুযোগ দিতেও ছিলেন সদা আগ্রহী, যার ফলে অনেক নতুন মুখ চলচ্চিত্রে জায়গা করে নিতে পেরেছে।
সোহান বেশ কয়েকবার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি সেন্সর বোর্ডের সদস্যও ছিলেন।


