নেত্রকোনার মদন, মোহনগঞ্জ, কলমাকান্দা, কেন্দুয়া ও খালিয়াজুরীর হাওরাঞ্চলে চলতি বোরো মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে ঘন ঘন বৃষ্টি, বজ্রপাত, শিলাবৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কায় কৃষকদের মাঝে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। শ্রমিক সংকট এবং নিচু জমিতে পানি জমে যাওয়ায় মাঠের ধান ঘরে তোলা নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা।
হাওরের নিচু জমিতে পানি জমে থাকায় কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন চালানো দুরূহ হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে তীব্র শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক খোঁজাখুঁজির পর শ্রমিক পাওয়া গেলেও তারা অতিরিক্ত মজুরি দাবি করছেন।
খালিয়াজুরীর পাঙ্গাশিয়া, ফাটা ও তিনবিলাসহ বিভিন্ন হাওরে ধান শুকানোর জায়গার অভাবে অনেক কৃষক ধান মাড়াই করতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে অনেককে পানির ওপর দিয়ে ধান টেনে উঁচু স্থানে তুলতে দেখা গেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলে ৪১ হাজার ৬৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার ৬০ মেট্রিক টন।
রোববার পর্যন্ত ৫৮ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। আবহাওয়া বিভাগ অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে আগাম বন্যার পূর্বাভাস দেওয়ায় কৃষি বিভাগ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দিচ্ছে।
মাঠে ফলন ভালো হলেও ধানের বাজার দর নিয়ে অসন্তুষ্ট কৃষকরা। বর্তমানে প্রতি মণ ধান মাত্র ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কৃষক খাইরুল আলম জানান, বীজ, সার ও কীটনাশকের আকাশচুম্বী খরচের পর ধান কাটার বাড়তি মজুরি দিয়ে কোনো হিসাব মিলছে না।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, মিলারদের চাহিদা কম থাকায় এবং বাজারের অস্থিরতায় বেশি দামে ধান কেনা সম্ভব হচ্ছে না।
উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মুকুল থিগিদি জানান, সরকারি ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান এখনো শুরু না হওয়ায় বাজারে দাম কিছুটা কম। তবে সংগ্রহ শুরু হলে দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীম জানান, কৃষকদের দুর্ভোগের বিষয়টি নজরে রয়েছে এবং সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনার প্রস্তুতি চলছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের ‘কাবিটা’ প্রকল্পের আওতায় চলতি অর্থবছরে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩৬ কিলোমিটার ডুবন্ত বাঁধ মেরামত করা হয়েছে। কৃষকদের একমাত্র ফসল রক্ষা করতে এই বাঁধগুলোর ওপরই এখন ভরসা করছেন স্থানীয়রা।


