বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, আগামী নির্বাচন যদি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ না হয়, তাহলে দেশের মানুষের হতাশার শেষ থাকবে না।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য সামনে যে সুযোগ এসেছে, তা যেন কেউ অনৈতিকভাবে নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
বুধবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নজরুল ইসলাম বলেন, গণতন্ত্রের মূল বাহন হচ্ছে নির্বাচন। যেখানে নির্বাচন নেই, সেখানে গণতন্ত্রও নেই। জনগণের মত প্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের সাংবাদিকরাই সবচেয়ে বেশি তথ্য জানেন এবং সত্য অনুসন্ধান তাদের অন্যতম দায়িত্ব। জাল ভোট দেওয়া যেমন অপরাধ, তেমনি কাউকে ভোট দিতে না দেওয়াও একই ধরনের অপরাধ। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো অনৈতিক বা অন্যায় কর্মকাণ্ড যেন সংঘটিত না হয়, সে বিষয়ে সাংবাদিকদের সতর্ক দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও আরও বলেন, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের সুফল দেশের মানুষ এখনো পুরোপুরি পায়নি। দীর্ঘ সময় ধরে অনেক মানুষ গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধেই এ দেশের সন্তানরা জীবন দিয়েছে। বর্তমানে একটি পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং সেই সুযোগকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে।
সংবাদপত্রের মালিকানা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশের বেশিরভাগ গণমাধ্যম এখন বড় শিল্পপতি বা ব্যবসায়ীদের হাতে। তারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় গণমাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাব পড়ে। এমন প্রতিকূলতার মাঝেও গণমাধ্যমকর্মীদের নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে হবে।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে এই বিএনপি নেতা বলেন, এবারের নির্বাচন অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। দেশের বর্তমান সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণ সহজ নয়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভোটের মাধ্যমে যোগ্য ব্যক্তির হাতে রাষ্ট্রের দায়িত্ব তুলে দিতে হবে।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ইসলাম জবিউল্লাহ। সভার উদ্বোধন করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব রুহুল কবির রিজভী।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন, সাবেক নির্বাচন কমিশনার জাকারিয়া এবং আরএফইডির সভাপতি কাজী জেবেল, সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী, সাবেক সভাপতি সাইদুর রহমানসহ অন্যরা।


