নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় বৈদ্যুতিক মিটারের ত্রুটি থেকে সৃষ্ট আগুনে একটি বসতঘরসহ সব মালামাল পুড়ে গেছে।
সোমবার গভীর রাতে উপজেলার চর বৈশাখী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে মারা গেছে চারটি গবাদি পশু। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, আগুনে তাদের ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে চর বৈশাখী গ্রামের সোহরাব কবিরাজের বসতঘরে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে সুবর্ণচর উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষণে আগুনে ৪টি দুগ্ধজাত গরু, একটি বসতঘর, একটি মোটরসাইকেল ও একটি বাইসাইকেলসহ সব মালামাল পুড়ে যায়।
ভুক্তভোগী সোহরাব কবিরাজ জানান, বৈদ্যুতিক মিটারের ত্রুটির কারণেই এই আগুন লেগেছে। বারবার কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পল্লী বিদ্যুতের অবহেলাকেই তারা এই সর্বনাশের জন্য দায়ী করছেন।
সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতারা। তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সান্ত্বনা জানান ও পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের তীব্র সমালোচনা করেন।
নোয়াখালী জেলা জামায়াতে ইসলামির আমির ইসহাক খন্দকার বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বহীনতা ও অবহেলার কারণেই আজ একটি পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে।’ তিনি অবিলম্বে ভুক্তভোগী পরিবারটিকে উপযুক্ত সরকারি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান।
একই সময় নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শাহজাহানের পুত্র আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সবুজ ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলে সান্ত্বনা দেন। তিনি কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
খবর পেয়ে সুবর্ণচর উপজেলার চর জব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমান ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তার নির্দেশনায় থানার কর্তব্যরত ডিউটি অফিসার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ওসি জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
সুবর্ণচর উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসার আরব আলী শেখ জানান, ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলে পল্লী বিদ্যুতের কর্মকর্তাদের পাঠিয়ে তদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


