ঢাকার গুলশানের একটি ভবন থেকে মাথায় রড পড়ে এক ব্যক্তি নিহতের ঘটনায় আবাসন প্রতিষ্ঠান কনকর্ড গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে আসামি করে মামলা হয়েছে।
নিহত ব্যক্তির নাম মো. আশফাকুজ্জামান চৌধুরী পিপলু (৪২)।
রোববার নিহতের শ্বশুর সিরাজুল ইসলাম তালুকদার বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলাটি করেন।
মামলায় কনকর্ড গ্রুপের চেয়ারম্যান এস এম কামাল উদ্দিন (৭২) ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার কামাল (৪৫) ছাড়াও আরও ১০ থেকে ১২ অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে গুলশানের ১৪০ নম্বর সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অবহেলা ও গাফিলতির অভিযোগ এনে কনকর্ড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার দিন দুপুরে অফিস থেকে বের হয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন আশফাকুজ্জামান। তখন উল্টো পাশে নির্মাণাধীন ‘কনকর্ড এম বি আর স্কাইলাইন’ ভবনের ২৫ তলায় কাজ চলছিল। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় ওপর থেকে একটি লোহার রড সরাসরি তার মাথায় পড়ে বিদ্ধ হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে গুলশান ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আশফাকুজ্জামান চৌধুরী গুলশানের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ‘জিই হেলথকেয়ার টেকনোলজিস’-এ লজিস্টিকস ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালীর পুকুরিয়া ইউনিয়নের বরুমছড়ায়।
আশফাকুজ্জামানের শ্বশুর সিরাজুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ‘আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। কয়েকদিন আগেও একই স্থানে একই ভবন থেকে টিন পড়ে এক ব্যক্তির কপাল কেটে গিয়েছিল বলে আমরা জানতে পেরেছি।’
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া বহুতল ভবনের কাজ করবে কেন?’
প্রতিষ্ঠানটির গাফিলতির কারণে তার জামাতার মৃত্যুতে ১১ বছর বয়সী একমাত্র শিশু সন্তানের পড়ালেখাসহ ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে গেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। তদন্ত করে দায়িদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


