আগামী সংসদ নির্বাচনে অবশেষে সিলেট-৪ (কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী হচ্ছেন সিলেট সিটির সাবেক মেয়র বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আরিফুল হক চৌধুরী। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বুধবার রাতে আরিফুল হককে বাসায় ডেকে নিয়ে এই আসনে নির্বাচন করার নির্দেশ দিয়েছেন।
বিএনপির ২৩৭টি আসনে মনোনয়ন ঘোষণার সময় সিলেট-৪ আসনে কোনো প্রার্থী দেওয়া হয়নি।
এর আগে সিলেট মহানগরী নিয়ে সিলেট-১ আসনে নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন আরিফুল হক চৌধুরী। এজন্য তিনি গণসংযোগও চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এই আসনে মনোনয়ন না দিলে সিলেট সিটি কর্পোরেশনে মেয়র পদে মনোনয়নের নিশ্চয়তা চেয়েছিলেন।
গত ৩ নভেম্বর বিএনপির মনোনয়ন ঘোষণায় সিলেট-১ আসনে প্রার্থী হয়েছেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার মুক্তাদির। অন্যদিকে, আরিফুল হককে সিলেট সিটির নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনয়নেরও নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি। এতে তিনি চরমভাবে আশাহত হন।
বিএনপির সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ আমলেই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দুইবার জয়ের মাধ্যমে নিজের জনপ্রিয়তা প্রমাণ করেছেন আরিফুল হক। তিনি সংসদ নির্বাচন থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখলে পুরো সিলেটে এর নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা করছিল বিএনপির হাইকমান্ড। তাই নির্বাচনে যুক্ত রাখতে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আরিফুল হককে ডেকে নিয়ে সিলেট-৪ আসনে নির্বাচন করার নির্দেশ দেন।
খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করার সময় তাদের সঙ্গে ভার্চ্যুয়ালি যোগ দেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনিও আরিফুল হককে সিলেট-৪ আসনে নির্বাচন করতে বলেন। দুই শীর্ষ নেতার নির্দেশে এই আসন থেকে নির্বাচন করতে রাজি হন আরিফুল হক চৌধুরী।
আরিফুল হক বলেন, ‘চেয়ারপারসন আমাদের জাতীয় মুরুব্বী। দলের চেয়ারপারসনের নির্দেশ আমি কখনো অমান্য করিনি, করবও না। সিলেট-৪ আসনে নির্বাচন করার আদেশ মাথা পেতে মেনে নিয়েছি।’
সীমান্তঘেঁষা এই আসনটিতে বিএনপির মনোনয়ন পেতে চেষ্টা করছিলেন একাধিক নেতা। তাদের মধ্যে এগিয়ে ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী। জামায়াতে ইসলামী অনেক আগেই জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিনকে এই আসনে তাদের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে।


