ভোক্তাপর্যায়ে সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার।
জাতীয় সংসদে দেওয়া এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এ তথ্য জানান।
রোববার সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এলপিজির নির্ধারিত দাম কার্যকর রাখতে মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে এবং মজুদদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পুলিশ সুপারদের আইনি পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, কোথাও মজুতদারির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।
সংসদকে তিনি জানান, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে বাজারে নিবিড় তদারকি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং অধিদপ্তরের বিশেষ টিম নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।
এ ছাড়া এলপিজি অপারেটরদের সংগঠন লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশকেও (লোয়াব) নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করতে সমন্বয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, দেশে এলপিজির প্রায় ৯৮ দশমিক ৬৭ শতাংশই আমদানিনির্ভর এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি বলেন, এ কারণে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেম থেকে আমদানির তথ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে বিইআরসিকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


