চট্টগ্রাম নগরীর সিআরবি এলাকায় হাসপাতাল বা নতুন কোনো স্থাপনা নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন।
রোববার সকালে নগরীর জামালখান লিচুতলা এলাকায় ‘নগরীর খাল-নালা পরিষ্কারে বিশেষ কার্যক্রম’ উদ্বোধন করতে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন তিনি।
শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ নিয়ে আমি গতকাল মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। আমি বলেছি, এখানে গাছ কেটে সিআরবিতে কখনো কোনো হাসপাতাল বা স্থাপনা আমরা করতে দিব না এবং এটা চট্টগ্রামবাসী কখনো মেনে নেবে না। মন্ত্রীও আমার সঙ্গে এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন।’
‘পুরানো হাসপাতালের অবকাঠামোই দরকার হলে ভেঙে কীভাবে নতুন সুন্দর হাসপাতাল করা যায় সে বিষয়ে সরকার ভেবে দেখবে। এটাও আমাদের সময়ের দাবি যেহেতু ওই হাসপাতালে রোগী আসে না’, যোগ করেন তিনি।
মেয়র আরও বলেন, ‘এখানে আমরা ডেন্টাল কলেজের কথা বলেছি। একটা পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল হাসপাতাল এবং কলেজের কথাও বলেছি। কাজেই ওই জায়গায় আমরা হয়তো নতুন অবকাঠামো দেখার আশা করতে পারি। কিন্তু নতুন কোন স্থাপনা সেখানে হবে না।’
এর আগে রোববার সকালে সিআরবি এলাকায় হাসপাতাল নির্মাণের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছে ‘সিআরবি রক্ষা মঞ্চ’। রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের চট্টগ্রাম সফর এবং প্রস্তাবিত হাসপাতালের নির্মাণস্থল পরিদর্শন কর্মসূচি ঘিরে এই মানববন্ধন করা হয়।
রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে সিআরবির প্রায় ছয় একর জমিতে ৫০০ শয্যার একটি হাসপাতাল এবং ১০০ আসনের মেডিকেল কলেজ স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে ইউনাইটেড গ্রুপের অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের চুক্তিও হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী, ৫০ বছর পর স্থাপনাটি রেলওয়ের কাছে হস্তান্তরের কথা ছিল।
তবে সিআরবির উন্মুক্ত সবুজ পরিবেশে এ ধরনের বড় স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে শুরু থেকেই আন্দোলনে নামে পরিবেশবাদী সংগঠন, সংস্কৃতিকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তাদের দাবি, প্রকল্পটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হোক। দীর্ঘ আন্দোলন এবং বিভিন্ন মহলের চাপের মুখে ২০২২ সালে প্রকল্পটি স্থগিত করা হয়। একই বছরের অক্টোবরে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিও সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণের বিপক্ষে মত দেয়।
নতুন করে মন্ত্রীর পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে আবারও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তাদের ভাষ্য, ‘কালচারাল হেরিটেজ’ ঘোষিত এলাকায় এ ধরনের বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ ডিটেইল এরিয়া প্ল্যানের (ড্যাপ) নির্দেশনার পরিপন্থী।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সিআরবি এলাকাকে ‘কালচারাল হেরিটেজ’ হিসেবে ঘোষণা করে এবং ২০০৯ সালে তা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। ড্যাপ অনুযায়ী, এ এলাকায় বাণিজ্যিক বা বহুতল স্থাপনা নির্মাণের অনুমোদন নেই।
২০২১ সালের এক গবেষণায় সিআরবি এলাকায় ২২৩ প্রজাতির উদ্ভিদের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়, যার মধ্যে বিপন্ন ও বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতিও রয়েছে। পাশাপাশি বহু ঔষধি গাছ, ঐতিহাসিক স্থাপনা ও সমাধির কারণে এলাকাটি পরিবেশগত ও ঐতিহ্যগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, সিআরবি নিজেই একটি ‘প্রাকৃতিক হাসপাতাল’; তাই সেখানে বড় আকারের স্থাপনা নির্মাণ পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।


