চট্টগ্রাম রেলওয়ে বিল্ডিং (সিআরবি) এলাকায় সরকারি উদ্যোগে হাসপাতাল নির্মাণের বিষয়ে বর্তমানে কোনো অগ্রগতি নেই বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন, নৌ ও রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
রোববার দুপুরে চট্টগ্রামের সিআরবি এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।
রেলমন্ত্রী বলেন, ‘সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ নিয়ে অতীতে বিভিন্ন প্রস্তাবনা ছিল। প্রথমে ২৫০ শয্যা এবং পরে ২০২০ সালে ৫০০ শয্যার প্রস্তাব পাস হয়েছিল। কিন্তু বিগত সরকার যখন এটি বাস্তবায়ন করতে যায়, তখন স্থানীয় নাগরিক সমাজ ও পরিবেশবাদীরা আপত্তি জানান। তারা সিআরবিকে “চট্টগ্রামের ফুসফুস” হিসেবে অভিহিত করে এর প্রকৃতি রক্ষার দাবি তোলেন, যার ফলে প্রকল্পটি এগোতে পারেনি।’
প্রকল্পটির বর্তমান অবস্থা ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী জানান, সর্বশেষ সংসদীয় কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল যারা আন্দোলন করছেন–সেই নাগরিক ও সামাজিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বসে একটি সমঝোতায় আসার। যেহেতু একটি চুক্তি আগে থেকেই করা হয়েছিল, তাই বিষয়টি সমাধানের জন্য আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। তবে আপাতত এই প্রকল্পের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
মন্ত্রীর পরিদর্শনের আগে এদিন সকালে সিআরবি এলাকায় হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগের প্রতিবাদে মানববন্ধন করে ‘সিআরবি রক্ষা মঞ্চ’। মানববন্ধনে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘সিআরবি চট্টগ্রামের ইতিহাস ও পরিবেশগত ভারসাম্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এখানে কোনো বাণিজ্যিক স্থাপনা বা হাসপাতাল নির্মাণের চেষ্টা করা হলে নগরবাসী তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। তারা অবিলম্বে এই প্রকল্প বাতিলের স্থায়ী ঘোষণা দাবি করেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) মাধ্যমে সিআরবিতে ৫০০ শয্যার বেসরকারি হাসপাতাল ও ১০০ আসনের মেডিকেল কলেজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সে সময় শতবর্ষী গাছ কাটা ও পরিবেশ ধ্বংসের আশঙ্কায় চট্টগ্রামের সর্বস্তরের মানুষ আন্দোলনে নামলে প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত স্থগিত হয়ে যায়।


