ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের শীর্ষ দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালতে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২৭ এপ্রিল পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে ওইদিন পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণ করা হবে।
বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ দিন ধার্য করে। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। তিনি এ মামলায় পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আরও এক সপ্তাহ সময় চান। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন দিন ঠিক করে আদালত।
গত ১২ জানুয়ারি সালমান এফ রহমান এবং আনিসুল হকের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ গঠন করে আদালত। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের শীর্ষ দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে মানবতাবিরোধী অপরাধের আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।
প্রসিকিউশনের দাবি, গণঅভ্যুত্থান দমনে পরিকল্পিত ও পদ্ধতিগত সহিংসতার সঙ্গে আসামিরা জড়িত ছিলেন। অভিযোগে বলা হয়, গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে ষড়যন্ত্র করা হয় এবং ক্ষমতাসীন দলের সশস্ত্র কর্মীরা একাধিক স্থানে হামলা চালায়। এর মধ্যে রাজধানীর মিরপুরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলো বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়, তাতে বিভিন্ন ঘটনায় মোট ৩০ জন নিহতের তথ্য প্রসিকিউশন থেকে দাবি করা হয়েছে।
প্রসিকিউশন আরও জানায়, সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারের দায়িত্বশীল অবস্থানে থাকলেও সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। আদালতে উপস্থাপিত টেলিফোন কথোপকথনের রেকর্ডে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনার প্রমাণ রয়েছে বলে প্রসিকিউশনের দাবি। একটি কথোপকথনে আন্দোলনকারীদের ‘শেষ করে দিতে হবে’; এমন মন্তব্য হত্যাকাণ্ডে উসকানির ভূমিকা পালন করেছে বলেও প্রসিকিউশনের যুক্তি।
তবে আসামিপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, উপস্থাপিত প্রমাণ আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয় এবং অভিযোগগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।


