নেপালের ‘জেন জি’ বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ১৯ জন নিহতের ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে গভীর শোক জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। সেইসঙ্গে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও আহতদের বিনা খরচে চিকিৎসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার এক ভিডিও বার্তায় ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি বলেন, ‘বিক্ষোভে প্রাণহানি ঘটায় আমি অত্যন্ত মর্মাহত। যারা প্রিয়জন হারিয়েছেন, তাদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি আমি গভীর সমবেদনা জানাই।’
প্রধানমন্ত্রী ওলি স্পষ্ট ভাষায় জানান, সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করার কোনো নীতি গ্রহণ করেনি। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক কিংবা এক্সের মতো ‘গুরুত্বপূর্ণ’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনাও নেপাল সরকারের নেই।
‘সরকার নয় বরং সম্প্রতি কিছু প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করা হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে। আদালতের আদেশ ছিল, আমাদের দেশে ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো যেন নেপালেই নিবন্ধন করা হয়’, বলেন কেপি শর্মা ওলি।

তিনি দাবি করেন, বিক্ষোভে ‘বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী’ অনুপ্রবেশ করে সহিংসতা ঘটিয়েছে। পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কেবল তাদের ঠেকানোর চেষ্টা করেছে। ‘যারা বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিলেন, তারা নিজেরাই বিক্ষোভ সফল ঘোষণা দিয়ে সবাইকে বাড়ি ফিরে যেতে বলেছিলেন। কিন্তু অনুপ্রবেশকারীরা সাধারণ ছাত্র-জনতার সঙ্গে মিশে গিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালিয়েছে।’
দুর্নীতি এবং ২৬টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে গত সোমবার উত্তাল হয়ে ওঠে নেপাল। বিক্ষোভ দমনে হওয়া সংঘর্ষে ১৯ জনের প্রাণহানির ঘটনায় আরও তীব্র হয়ে ওঠে আন্দোলন।
এমন পরিস্থিতিতে রাতেই মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিক্ষোভরতদের দাবি মেনে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয় নেপাল সরকার।


