নেপালে টানা ‘জেন জি’ বিক্ষোভের মধ্যে মঙ্গলবার বিক্ষোভকারীরা রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌডেল এবং প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলির ব্যক্তিগত বাসভবনে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। ভারতের এনডিটিভি ডটকম জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা রাষ্ট্রপতির বাড়ির ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর করছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী পুষ্পকমল দাহাল প্রচণ্ড ওশের বাহাদুর দেউবা, এবং জ্বালানি মন্ত্রী দীপক খড়কার বাড়িও আক্রমণের শিকার হয়।
এদিকে, সহিংস বিক্ষোভের মধ্যে কাঠমান্ডুর ত্রিভূবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। সেখানের দূতাবাস প্রবাসী বাংলাদেশিদের ‘ঘরে অবস্থান’ করার নির্দেশনা দিয়েছে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, অলি সরকারে পদত্যাগের চাপ বাড়ছে, একের পর এক মন্ত্রীও দায়িত্ব থেকে সরে যাচ্ছেন। রাজধানী কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন অঞ্চলে জারি করা কারফিউ চলছে।

এদিন পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ঠেকানোর চেষ্টা করলেও বলপ্রয়োগ করেনি।
এর আগে, নেপালের ‘জেন জি’ বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ১৯ জন নিহতের ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে গভীর শোক জানান প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। সেইসঙ্গে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও আহতদের বিনা খরচে চিকিৎসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার এক ভিডিও বার্তায় ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি বলেন, ‘বিক্ষোভে প্রাণহানি ঘটায় আমি অত্যন্ত মর্মাহত। যারা প্রিয়জন হারিয়েছেন, তাদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি আমি গভীর সমবেদনা জানাই।’

প্রধানমন্ত্রী ওলি স্পষ্ট ভাষায় জানান, সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করার কোনো নীতি গ্রহণ করেনি। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক কিংবা এক্সের মতো ‘গুরুত্বপূর্ণ’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনাও নেপাল সরকারের নেই।
‘সরকার নয় বরং সম্প্রতি কিছু প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করা হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে। আদালতের আদেশ ছিল, আমাদের দেশে ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো যেন নেপালেই নিবন্ধন করা হয়’, বলেন কেপি শর্মা ওলি।
দুর্নীতি এবং ২৬টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে গত সোমবার উত্তাল হয়ে ওঠে নেপাল। বিক্ষোভ দমনে হওয়া সংঘর্ষে ১৯ জনের প্রাণহানির ঘটনায় আরও তীব্র হয়ে ওঠে আন্দোলন।
এমন পরিস্থিতিতে রাতেই মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিক্ষোভরতদের দাবি মেনে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয় নেপাল সরকার।


