ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ভোট দিতে হুইল চেয়ারে করে ক্যাম্পাসে হাজির হন বামদল সমর্থিত প্রতিরোধ পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদপ্রার্থী মেঘমল্লার বসু। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও ‘বড় দলের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ’ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
মেঘমল্লার বসু বলেন, ‘এটা খুবই ইতিবাচক। প্রচণ্ড স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখা যাচ্ছে। এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমরা চেয়েছিলাম। আমরা এখন পর্যন্ত যা দেখছি, যদি এই ধারায় ভোটার উপস্থিতি (টার্নআউট) অব্যাহত থাকে তাহলে নির্বাচন চমৎকার হবে।’
‘ভোটারদের জানাতে চাই, ভোটের পরিবেশ অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ। আপনারা এখনও যারা ভোট দিতে আসেননি, তারা প্লিজ ভোট দিতে রওয়ানা হন। যারা ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় আছেন, প্লিজ ভোট দিতে চলে আসুন। আপনার যাকে যোগ্য প্রার্থী মনে হয়, তাকে কাস্ট করেন।’ এমন আহ্বান জানান তিনি।

অপরদিকে, বড় দলের প্রতি ‘পক্ষপাতমূলক আচরণ’ করা হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত ছোট ছোট অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বড় দলের প্রতি পক্ষপাতের অভিযোগ মেনে নিয়েই মাঠে নামতে হয়েছে। কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও ভোটাররা ব্যাপকভাবে উপস্থিত হয়, তাহলে কোনো ‘ম্যানিপুলেশন, ইঞ্জিনিয়ারিং’ সম্ভব হবে না। যদি ৪০ হাজার শিক্ষার্থী ভোট দিতে আসে, তাহলে আপনি লিফলেট দিয়ে কয়জনকে ম্যানিপুলেট করবেন?
ঢাবির ভোট ঘিরে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মীরা প্রবেশমুখগুলোতে অবস্থান নিয়েছেন। শুধুমাত্র আইডি কার্ডধারী শিক্ষার্থী এবং অনুমোদিত ব্যক্তিদের ক্যাম্পাসে প্রবেশের অনুমতি রয়েছে।
ডাকসু নির্বাচনে মোট ২৮টি পদের বিপরীতে লড়ছেন ৪৭১ জন প্রার্থী, এর মধ্যে নারী প্রার্থী ৬২ জন। শুধু সদস্যপদেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সর্বাধিক ২১৭ জন প্রার্থী।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হলে ১৩টি পদে মোট এক হাজার ৩৫ প্রার্থী চূড়ান্তভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এই নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ৩৯ হাজার ৭৭৫ জন। যাদের মধ্যে ছাত্র ২০ হাজার ৮৭৩ এবং ছাত্রী ১৮ হাজার ৯০২ জন।
ভোটাররা ব্যাগ, মোবাইল ফোন, স্মার্ট ওয়াচ, যেকোনো ধরনের ইলেকট্রিক ডিভাইস, পানির বোতল বা তরল কোনো পদার্থ নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না।
এবারের ডাকসু নির্বাচনে উমামা ফাতেমার নেতৃত্বে ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য’, ছাত্রদল সমর্থিত ‘আবিদ-হামিম-মায়েদ পরিষদ’, ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ সমর্থিত ‘বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ’, বাম জোট সমর্থিত ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’সহ পূর্ণ ও আংশিক মিলিয়ে প্রায় ১০টি প্যানেল অংশ নিচ্ছে।


