হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগ তুলে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকরা। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।
শনিবার দুপুরে পাকিজা মোড় এলাকায় এই অবরোধ কর্মসূচি করেন তারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বেলা ১২টার দিকে সাভারের বিভিন্ন গলি ও শাখা সড়ক থেকে কয়েকশ’ রিকশাচালক একত্রিত হয়ে পাকিজা মোড়ে অবস্থান নেন। তারা মহাসড়কের ওপর আড়াআড়িভাবে রিকশা রেখে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা ধরে চলা এই অবরোধের কারণে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের কয়েক কিলোমিটার এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
বিক্ষুব্ধ রিকশা চালকরা বলেন, মহাসড়কে রিকশা নিষিদ্ধ থাকলেও জীবিকার তাগিদে তারা চলাচল করেন। দিনভর যা আয় হয়, তার বড় একটা অংশ পুলিশকে দিয়ে দিতে হয়। প্রতিবাদ করলে মামলার ভয় দেখানো হয়।
অবরোধের কারণে সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড থেকে গেন্ডা ও হেমায়েতপুর অভিমুখে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। তীব্র গরমে বাসে আটকে থাকা যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন। বিশেষ করে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি সেবার গাড়িগুলোও যানজটে আটকা পড়ে।
পরে দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হেলাল উদ্দিন আন্দোলনরত রিকশাচালকদের আশ্বস্ত করে বলেন, ‘হাইওয়ে পুলিশের সাথে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে।’ এরপর রিকশাচালকরা অবরোধ তুলে নেন।
চাঁদাবাজির অভিযোগ বিষয়ে সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ শাহজাহান বলেন, ‘হাইওয়েতে থ্রি-হুইলার, সিএনজি, ই-বাইক এবং সব ধরনের তিন চাকার যান চলাচল আইনত নিষিদ্ধ। এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। চালকদের আইনের ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে এবং সচেতন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘চালকদের পক্ষ থেকে যে চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। এগুলো আইনি প্রক্রিয়া। যেহেতু রিকশাগুলোর কোনো লাইসেন্স বা সঠিক কাগজ নেই, তাই তৎক্ষণাৎ মামলা দেওয়া হয়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ৩৯ ধারায় ২৫০০ টাকা জরিমানা এবং ব্যাংক চার্জ বাবদ ১০০ টাকা, মোট ২৬০০ টাকা জমা দিয়ে গাড়ি ছাড়ানোর বিধান রয়েছে।’


