সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ পরবর্তী সমাবেশে হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে তিনজন আহত হয়েছেন।
সোমবার রাত পৌনে ১০টায় সাভারের তারাপুর ঈদগাহ মাঠে সমাবেশ চলাকালে এ বিস্ফোরণ ঘটে।
এ ঘটনায় সমাবেশস্থলে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য ইয়াসির আরাফাত ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এনসিপি ঢাকা জেলার আয়োজনে সোমবার রাতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ‘জুলাই পদযাত্রা অনুষ্ঠান ও সমাবেশ’-এর আয়োজন করা হয়।
এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা গাজীপুরের কালীগঞ্জে অনুষ্ঠান শেষ করে রাত ৯টার দিকে সাভারে প্রবেশ করেন এবং নেতাকর্মীদের নিয়ে পদযাত্রা করে অনুষ্ঠানস্থলে আসেন। তারা সমাবেশস্থলে আসার মুহূর্তেই সেখানে বিদ্যুৎ চলে যায়। এর মধ্যেই সভা শুরু হয় এবং সভাটি পরিচালনা করছিলেন সারজিস আলম।
প্রথমে স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন। এরপর বক্তব্য শুরু করেন এনসিপির ঢাকা জেলা কমিটির আহ্বায়ক নাবিলা তাসনিম (যিনি ধামরাই থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন)। তার বক্তব্য চলাকালীন হঠাৎ বিকট শব্দে হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পর পরই এনসিপি নেতাকর্মী-সমর্থক এবং মঞ্চের সামনে থাকা লোকজন আতঙ্কে ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন। এর একটু পরেই বিদ্যুৎ চলে আসে।
তখন মঞ্চে এনসিপি আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা (চিফ হুইপ) নাহিদ ইসলাম, এনসিপি সদস্য সচিব সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক (সংগঠক) সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে এমন পরিকল্পিত হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন দলটির নেতাকর্মীরা।
বিস্ফোরণে আহত তিনজন হলেন বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার আতাখালী এলাকার মো. গণি খন্দকারের ছেলে শাহীন খন্দকার (৩০), পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার গোয়ালমারী এলাকার জামাল উদ্দিনের ছেলে মো. জসিম (২৬) ও সাভারের মুক্তির মোড় এলাকার উসমান গণির ছেলে শাহাদাত হোসেন (৪০)। এদের মধ্যে গুরুতর আহত এনসিপিকর্মী শাহীন খন্দকারকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বোমা বিস্ফোরণের পর নেতাকর্মীরা আবার একত্রিত হন এবং তড়িঘড়ি করে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার বিষয়টির সমালোচনা করে বিস্ফোরণের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন। পরে এনসিপি নেতাকর্মীরা নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে প্রশাসনের উপস্থিতিতে হাতবোমা হামলার বিচার দাবিতে মিছিল নিয়ে সাভার মডেল থানার সামনে গিয়ে জড়ো হন।
সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা ঘটা মানে পুলিশের ব্যর্থতা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতা। আমরা মনে করছি, আইনশৃঙ্খলা জনিত থেকে এটার পেছনে রাজনৈতিক একটা উদ্দেশ্য আছে। পুলিশকে যদি দলীয়করণ করা হয়, পুলিশ এই ধরনের ঘটনায় আমাদের প্রটেক্ট করতে পারবে না। কারণ পুলিশ রাজনৈতিক নির্দেশে তখন কাজটা করবে। এখন পুলিশ যদি গ্রেপ্তার করতে পারে, তবে বুঝব পুলিশ নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে।’
‘পুলিশ বলছে, তাদের ইচ্ছা ছিল কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছে। পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারছে কিনা, এটার ওপরই পরিষ্কার হয়ে যাবে পুলিশ বাংলাদেশে আসলে কতটা সুরক্ষা দিতে পারে। আমরা দেখেছি পুলিশ উপস্থিত ছিল। কিন্তু বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পরে পুলিশের আমরা কোনো সক্রিয়তা দেখিনি। বোমা হামলার পরে কিছু পুলিশ এসেছিল, আমাদের রক্ষা করার চেষ্টা করেছে। কিছু পুলিশ চলে গেছে।’
নাহিদ আরও বলেন, ‘তারা বলছে, চেষ্টা আছে। এখন আমরা দেখতে চাই, মুখে নয়, গ্রেপ্তার করার মাধ্যমে তাদের যে চেষ্টা আছে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা, সাভার এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এটা আমরা প্রমাণ পাবো যদি গ্রেপ্তার করতে পারে। আমাদের এখন পর্যন্ত দুইজন আহতের খবর পেয়েছি। আমরা হাসপাতালে যাব তাদের দেখতে। আমাদের জুলাই পদযাত্রা চলমান থাকবে। যা কিছু হোক, চলমান থাকবে।’
থানার কর্মসূচি শেষে নাহিদ ইসলাম ও এনসিপি নেতাকর্মীরা হাসপাতালে আহতদের দেখতে যান। এদিকে বিস্ফোরণের ঘটনায় ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পুলিশ। ঘটনার সময় বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে । ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা সুলতানা রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এ কথা জানান। তিনি বলেন, ‘এনসিসির পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হচ্ছে, ঘটনার সঙ্গে যে বা যারা জড়িত থাকুক তদন্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।’


