সাবেক সচিব ভূঁইয়া মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
‘সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগে শাহবাগ থানায় করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে এক বার্তায় জানিয়েছে ডিবি।
সেই সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া সংগঠন আওয়ামী লীগের ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে তারা।
এর আগে ‘মঞ্চ ৭১’ এর অনুষ্ঠান থেকে গ্রেপ্তার করে আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে একই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। একই মামলায় সোমবার গ্রেপ্তার সাবেক সিনিয়র সচিব আবু আলম মোহাম্মদ শহীদ খানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
ভূঁইয়া সফিকুল ইসলাম বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০১৩ সালে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব ছিলেন। পরে ২০১৫ সালে তাকে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব করা হয়। এক সময় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালকের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি।
গত ২৮ আগস্ট ‘মঞ্চ ৭১’ এর ব্যানারে সেগুন বাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। ‘জুলাই যোদ্ধা’ ব্যানারে একদল লোক অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করে ‘স্লোগান’ দেয় ও লতিফ সিদ্দিকীসহ অতিথিদের অবরুদ্ধ করে ভাঙচুর চালায়।
পরে পুলিশ সেখান থেকে সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, হাফিজুর রহমান কার্জনসহ ১৬ জনকে আটক করে। পরদিন সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তাদের আদালতের মাধ্যমে পাঠানো হয় কারাগারে।
এরপর গত সোমবার সাবেক সিনিয়র সচিব আবু আলম মোহাম্মদ শহীদ খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার গ্রেপ্তার হন ভূঁইয়া মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি রোধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষার দাবি তুলে ‘মঞ্চ ৭১’ সংগঠনটি গড়ে তোলেন গণফোরামের নেতা আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বীর প্রতীক এবং সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না।
সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলাটির অভিযোগে বলা হয়েছে, ২৮ আগস্ট সকাল ১১টার দিকে মামলার বাদী দেখতে পান, বেশকিছু লোক রিপোর্টার্স ইউনিটির অডিটোরিয়ামে কিছু লোককে ঘেরাও করে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট বলে স্লোগান দিচ্ছে এবং সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী বক্তব্য দিচ্ছেন। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি বন্ধের লক্ষ্যে ৫ আগস্ট ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। উক্ত সংগঠনের উদ্দেশ্য ছিল জাতির অর্জনকে মুছে ফেলার সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে বাংলাদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আত্মত্যাগের প্রস্তুতি নেওয়া। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ২৮ আগস্ট সকাল ১০টায় একটি গোল টেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এই গোল টেবিল বৈঠকে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরাসহ আরও ৭০-৮০ জন অংশগ্রহণ করেন। পরে পুলিশ আসামিদের হেফাজতে নেয়। এ ঘটনায় শাহবাগ থানার এসআই মো. আমিরুল ইসলাম ২৯ আগস্ট বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেন।


